ঈদ করা হলো না সেই মুক্তিযোদ্ধার
পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ উপভোগ করতে পারলেন না নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের ১৬ নম্বর কাদিরপুর ইউনিয়নের ঘাটলা গ্রামের সেই বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কুদ্দুছ।
জীবিত এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে মৃত দেখিয়ে ভাতার টাকা আত্মসাৎ করছেন বলে অভিযোগ একই গ্রামের মৃত আবদুল কুদ্দুছের মেয়ে ছায়েরা খাতুনের বিরুদ্ধে।
এ নিয়ে গত ৮ মে (শুক্রবার) দেশের শীর্ষস্থানীয় নিউজ পোর্টাল জাগো নিউজে ‘জীবিত মুক্তিযোদ্ধাকে মৃত দেখিয়ে ভাতা আত্মসাতের অভিযোগ’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশ হলে এটা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়।
বৃহস্পতিবার (১৩ মে) দুপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কুদ্দুছ জাগো নিউজকে বলেন, গত অক্টোবর থেকে ভাতা পাই না। উৎসব ভাতাসহ এক লাখ টাকার মতো পাওয়ার কথা ছিল। ঈদের আগে ভাতার টাকার জন্য অনেক দৌড়ঝাঁপ করেছি, শেষ পর্যন্ত পাইনি। তাই ঈদটাও আর করা হলো না।
তিনি আরও বলেন, বিজিবিতে (সাবেক বিডিআরের অবসরপ্রাপ্ত সুবেদার) চাকরি করার কারণে অনেক সময় পাহাড় ডিঙাতেও হয়েছে। এখন সেই ব্যথায় প্রতিনিয়ত ডাক্তারের কাছে যেতে হয়। তাই আমার ভাতার বিষয়টি দ্রুত সমাধান করে দিলে অনেক উপকার হতো।
তিনি গত ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর লিখিত আবেদন করার পর বারবার ধর্না দিলেও এখনও তার কোনো প্রতিকার পাননি বলে জানান।
জানা গেছে, জীবিত আবদুল কুদ্দুছের গ্রামের আরেক আবদুল কুদ্দুছ মারা যাওয়ার আগে পুলিশে চাকরি করতেন। তার পালক মেয়ে ছায়েরা খাতুন প্রতারণা করে জীবিত বীর মুক্তিযোদ্ধাকে মৃত বাবা সাজিয়ে তার বিজিবি গেজেট নম্বর ব্যবহার করে এমআইএস করে নিজের নামে ব্যাংক হিসাব খুলে ওই টাকা ভোগ করছেন। বিষয়টি তিনি (ছায়েরা খাতুন) জাগো নিউজের কাছে স্বীকারও করে ভাতার বই ইতোমধ্যে জমা দিয়েছেন বলেও জানান।
বেগমগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আবদুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কুদ্দুছের সমস্যাটির মতো এমন অভিযোগ আমার চাকরি জীবনে আর পাইনি। তবে তিনি যেহেতু প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা তাই তার ভাতাটা দ্রুত পাওয়া উচিত।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শামছুন নাহারকে এ ব্যাপারে বারবার ফোন দিলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।
তবে নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান বৃহস্পতিবার জাগো নিউজকে বলেন, প্রকাশিত সংবাদটি আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। ঈদের পরে এক সপ্তাহের মধ্যে বিষয়টি সমাধান করার জন্য ইউএনওকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এআরএ/জিকেএস