দেশজুড়ে

নগরকান্দায় বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় ১১ আ’লীগ নেতা বহিষ্কার

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে চেয়ারম্যান পদে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় আওয়ামী লীগের ১১ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় তাদের বহিষ্কার করা হয়।

শনিবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার কোদালিয়া-শহীদনগর ইউনিয়নের দেলবাড়িয়া মাদরাসা মাঠে আয়োজিত নৌকা প্রতীক প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী ওঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মিয়া বহিষ্কার সংক্রান্ত লিখিত নোটিশ সবাইকে পড়ে শুনান।

উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের যেসব আওয়ামী লীগ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে তারা হলেন- নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-দপ্তর সম্পাদক ও চরযশোরদী ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান পথিক তালুদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও চরযশোরদী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান খন্দকার অহিদুল বারী আলম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও রামনগর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কাইমুদ্দিন মন্ডল, কাইচাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান চেয়ারম্যান কবির হোসেন ঠান্ডু মিয়া, ফুলসূতি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক খন্দকার তৌহিদুর রহমান টিটো, তালমা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ কর্মী ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মো. কামাল হোসেন মিয়া, আওয়ামী লীগ কর্মী দেলোয়ারা বেগম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও ডাঙ্গী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সরদার সাইফুজ্জামান বুলবুল, পুরাপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য আতাউর রহমান বাবু, রামনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য ও রামনগর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান আ. কুদ্দস ফকির ও কোদালিয়া-শহীদনগর (ভাজনকান্দা) ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য মোহাম্মদ ইমাম-উল ইসলাম।

এ বিষয়ে তালমা ইউনিয়নের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী কামাল হোসেন মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, আমি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। আমার বাবা দীর্ঘদিন এ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। আমার মা বর্তমান চেয়ারম্যান। আমার পরিবার আওয়ামী পরিবার। আমি মনোনয়ন চেয়ে শুধু প্রতিহিংসার কারণে বঞ্চিত হয়েছি। আমরা মানুষের সেবায় কাজ করি। মানুষ আমাদের ভালোবাসে। আমি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় প্রতিপক্ষের লোকজন আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়। তারা আমার নির্বাচনী অফিসে ভাঙচুর ও একাধিকবার হামলা চালিয়েছে। আমার লোকজনকে পিটিয়ে আহত করেছে।

তিনি আরও বলেন, আমাকে বহিষ্কার করা হোক আর যাই করা হোক, জীবিত থাকা পর্যন্ত নির্বাচনের মাঠে থাকবো।

এ বিষয়ে নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মিয়া বলেন, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাময়িকভাবে বহিষ্কৃত এসব আওয়ামী লীগ নেতা ও প্রার্থীদের নানাভাবে বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও তারা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তাই দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাদের সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এনকেবি নয়ন/এমএএইচ/