শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেছেন চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গোলাম ছরোয়ার মিঠু।
শনিবার (৭ মে) বিকেলে তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর পদত্যাগপত্রটি পাঠিয়েছেন। এতে তিনি ব্যক্তিগত কারণ উল্লেখ করেছেন।
আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রনি আলম নূর জাগো নিউজকে বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে গোলাম ছরোয়ার স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। নিয়ম অনুযায়ী পদত্যাগপত্রটি মাউশির মহাপরিচালক বরাবর পাঠানো হবে।
এর আগে শনিবার সকাল ১০টার দিকে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গোলাম ছরোয়ার মিঠুর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ঘুস নেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে তার অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা। পরে আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কলেজের সভাপতি রনি আলম নূরের সঙ্গে বসার আশ্বাসে সরে যান আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা ও কোচিংয়ের নামে আমাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছে। কলেজে ফান্ড থাকা স্বত্বেও কোনো শিক্ষককে বোনাস দেওয়া হয়নি। তাহলে ফান্ডের টাকা যায় কোথায়? আমরা এমন দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষের অপসারণ চাই।
শিক্ষার্থীদের দাবি, অযোগ্য হয়েও ২০১৮ সাল থেকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করে আসছেন গোলাম ছরোয়ার মিঠু। কলেজে তার চেয়েও অনেক সিনিয়র শিক্ষক রয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজের বেশ কয়েকজন প্রভাষক বলেন, বেতন সরকারিকরণের নামে দফায় দফায় মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গোলাম ছরোয়ার মিঠু। কিন্তু বেতন হয়নি। কলেজের বিভিন্ন খাত থেকে টাকা তুললেও তা থেকে কোনো সহযোগিতা করেন না তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গোলাম ছরোয়ার মিঠু বলেন, আমার বিষয়ে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা সঠিক নয়। আমার কোনো অনিয়ম থাকলে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হোক। তারা তদন্ত করে দেখে ব্যবস্থা নেবেন।
সালাউদ্দীন কাজল/এসজে/জেআইএম