প্রায় দেড় যুগ ধরে চা বিক্রি করছেন রিনিয়া বেগম। সবার কাছে তিনি ‘চা আপা’ নামে পরিচিত। ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার প্রিয় মুখ রিনিয়া। থানার পাশেই তার চায়ের দোকান। স্বামীর মৃত্যুর পর বাবার হাত ধরে ১৮ বছর আগে শুরু হয় তার জীবন সংগ্রাম। তারপর থেকে আর থেমে থাকেননি তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০৫ সালে রিনিয়া বেগমের স্বামী শাহাদৎ শেখ মারা যান। ২০১৮ সালে বাবা আতিয়ার রহমান ও পরের বছর মাতাও মারা যান। স্বামী হারা অসহায়তাকে পিছনে ফেলে দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। এক মেয়ে পড়ছে আলফাডাঙ্গা সরকারি ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণিতে। ছোট ছেলে আলফাডাঙ্গা সরকারি আরিফুজ্জামান পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র।
সরেজমিনে দেখা যায়, আলফাডাঙ্গা থানা সংলগ্ন প্রধান সড়কের পাশে রিনিয়া বেগমের চায়ের দোকান। বাবার বাড়ি বোয়ালমারী উপজেলার বারাংকুলা গ্রামে। আর স্বামীর বাড়ি একই উপজেলার বড়গাঁ গ্রামে। দীর্ঘদিন আলফাডাঙ্গায় বাসা বাড়া করে থাকেন। প্রতিদিন সূর্য ওঠার পরে শুরু হয় তার চা তৈরির কার্যক্রম। চলে গভীর রাত পর্যন্ত। চায়ের পাশাপাশি বিস্কুট, রুটি, পান-বিড়িও বিক্রি করেন তিনি। দোকানে নেই কোনো সহযোগী। চা তৈরি, ক্রেতাদের হাতে তুলে দেওয়া, বিলের টাকা-পয়সা নেওয়া থেকে সব কাজই তিনি একা সামলান।
কাজে ফাঁকে কথা হয় বেগমের সঙ্গে। তিনি বলেন, তিন মেয়ে আর এক ছেলেকে নিয়ে চা বিক্রি করে কোনোমতে জীবনযাপন করছি। কিছু দিন আগে আমার পেটে টিউমার অপারেশন করা হয়। এতে অনেক টাকা ব্যয় হয়। বেশ কিছু দিন দোকান বন্ধ রাখতে হয়েছে। আমি এখনও অসুস্থ। দোকান চালাতে কষ্ট হয়। তারপরও কী আর করবো। আমার কোনো জমিজমা, সহায় সম্পদ নেই। সরকারি-বেসরকারি ভাতা, দান-অনুদান, সাহায্য-সহযোগিতা কিছুই পাই না।
পাশের বোয়ালমারী উপজেলার সমাজকর্মী কামরুল হক ভূঁইয়া জাগো নিউজকে বলেন, রিনিয়া বেগমের সংগ্রামী ও কষ্টের জীবন। সমাজের বিত্তবানদের উচিত রিনিয়ার পাশে দাঁড়ানো। তাকে সাহায্য সহযোগিতা করা।
আলফাডাঙ্গা সরকারি ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক প্রবীর কান্তি বিশ্বাস জাগো নিউজকে বলেন, শিক্ষক, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, সমাজকর্মী থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রিনিয়ার দোকানে চা পান করতে আসেন। তার হাতের এক কাপ চা না খেলে আমাদের মনে শান্তি আসে না। তার স্বামী, বাবা-মা গত হয়েছেন। তার কেউ নেই। একাই অনেক কষ্ট করে ছেলেমেয়েদের নিয়ে সংসার চালাচ্ছেন।
এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা পৌরসভার মেয়র মো. সাইফুর রহমান সাইফার জাগো নিউজকে বলেন, রিনিয়া বেগম যদি সরকারি কোনো ভাতা ও সহযোগিতা পাওয়ার উপযুক্ত হন। সরকারি নিয়ম-নীতি অনুসরণ করে তাকে সাধ্যমতো সহায়তায় করা হবে। এছাড়াও আমি ব্যক্তিগতভাবে তার পাশে থাকার চেষ্টা করবো।
আরএইচ/জেআইএম