দেশজুড়ে

সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত কুমিল্লা গড়তে চাই: কায়সার

ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী নিজাম উদ্দিন কায়সার বলেছেন, আপনারা ভোটকেন্দ্রে আসুন। আমি যে পরিবর্তনের অঙ্গীকার করেছি, আপনারা আমাকে সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সহযোগিতা করুন। আমার অঙ্গীকার অনুযায়ী আমি একটি নতুন কুমিল্লা গড়বো। সেই কুমিল্লায় থাকবে না কোনো দুর্নীতি, থাকবে না কোনো সন্ত্রাসী। এটা হবে আমাদের সবার কুমিল্লা।

মঙ্গলাবার (১৪ জুন) দুপুরে জাগো নিউজকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাতকারে এসব কথা বলেন তিনি।

ঘোড়া প্রতীকের এই স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনের শেষ পর্যায়ের শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার যখন বলেন যে উনার করার কিছু নাই, তখন তো মানুষের মনের শঙ্কা থাকেই। আমি এখন পর্যন্ত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও তাদের প্রস্তুতি সম্পর্কে যা শুনতে পাচ্ছি তাতে এটা সত্য তারা ভোটে বিশ্বাসী নয়, তারা লুটপাটে বিশ্বাসী।

অন্য দুই প্রার্থীর সম্পর্কে তিনি বলেন, তারা দীর্ঘ ১১ বছর কুমিল্লাতে একটা লুটেরা রাজ্য কায়েম করেছেন। তারা দানবীয় শাসন কায়েম করেছেন। তারা দুজনই এমপি বাহারের শিষ্য। তারা তাদের বক্তব্যেই বলেন ‘আমার নেতা বাহার সাহেব’।

তারা যেহেতু দুজনই একটা গ্রুপের এমনকি দীর্ঘ ১১ বছর তারা কুমিল্লাতে লুটপাট এবং দানবীয় শাসন কায়েম করেছেন, ফলে মানুষ এই শ্রেণির বিরুদ্ধে। জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির একটা শক্তি তো আমার কাছে আছে। পাশাপাশি ইসলামি মূল্যবোধেরসহ সব শক্তি আমার পাশে আছে।

নিজাম উদ্দিন কায়সার বলেন, এরা (সাধারণ মানুষ) আজ অত্যাচার-নির্যাতন এবং জিম্মিদশার শিকার। এসব মানুষকে তারা স্তব্ধ করে রেখেছে। কুমিল্লায় গণমাধ্যম কর্মীদের বিরুদ্ধে যে মামলা রয়েছে সারা দেশে এত মামলা নেই। গণমাধ্যম কথা বলার চেষ্টা করলেও তাদেরও জিম্মি করে রাখা হচ্ছে।

‘যখন আমি এই মানুষের পক্ষ নিয়ে প্রতিবাদ করছি, তাদের পক্ষে কথা বলছি তখন আমি আর দলে সীমাবদ্ধ নই। এখন আমি সব শ্রেণি-পেশার লোকজনের। তারা আমাকে বুদ্ধি পরামর্শ দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। শেষ মুহূর্তে এসে আমি বলতে পারি আমি শতভাগ নিশ্চিত ঘোড়া মার্কা জয়ী হবে।’

এখন পর্যন্ত ভোটের পরিবেশ মোটামুটি ভালো উল্লেখ করে বিএনপির এই বিদ্রোহী প্রার্থী বলেন, কিন্তু আমাদের অপজিশনে যারা আছেন- স্থানীয় এমপি এবং নৌকা প্রতীকে যিনি প্রার্থী উনাদের ভোটারের দিকে কোনো নজর নেই। তাদের অন্যভাবে জয়ী হওয়ার দিকে নজর বেশি। পাশাপাশি আরেকজন আছেন দীর্ঘদিন ধরে কালো টাকা আয় করেছেন। উনি ভোটারদেরকে টাকা দিয়ে প্রভাহিত করার চেষ্টা করছেন। তারপরেও আমি যে স্লোগান দিয়েছি, যে অঙ্গীকার করেছি- কুমিল্লা পরিবর্তনের জন্য আমার স্লোগানের দিকে মানুষের আগ্রহ বেশি।

মাঠ পর্যায়ের প্রশাসক নিরপেক্ষ আছেন কি না– এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারের সঙ্গে থাকতে থাকতে মাঠ পর্যায়ের কিছু লোক দলীয় কর্মী হয়ে গেছেন। তবে কুমিল্লার শীর্ষ কর্মকর্তারা এখনও নিরপেক্ষ রয়েছেন। তাদের মধ্যে আন্তরিকতার অভাব দেখিনি।

বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটের মাঠে নেই এবং বিএনপির দুজন প্রার্থী এখন মাঠে। এ অবস্থায় বিএনপির কতটা ভোট আপনি পেতে পারেন এ প্রশ্নের জবাবে নিজাম উদ্দিন কায়সার বলেন, আসলে আমরা স্থানীয়ভাবে যারা রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ২০১৭ সালের পর থেকেই সাক্কু সাহেবের কর্মকাণ্ডের কারণে দল কেন্দ্রীয়ভাবে তাকে অব্যাহতি দিয়েছে। তাকে কিন্তু আমরা বিএনপির কর্মী হিসেবে ধরিও না। তিনিও কিন্তু কোথাও বিএনপি হিসেবে নিজেকে দাবি করেন না। বিএনপির সঙ্গে থাকলে যে কাজগুলো করতে হবে তাতে তিনি সম্পৃক্ত না। বরং তিনি আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর জন্য বিভিন্ন প্রোগ্রামে দোয়া চান। আর আমরা খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া চাই।

এমনকি তারা দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার কারণে কুমিল্লাতে লুটপাট করেছেন বলেও অভিযোগ করেন নিজাম উদ্দিন কায়সার।

কুসিক নির্বাচনে এবারের মেয়রপ্রার্থীরা হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত (নৌকা প্রতীক), স্বতন্ত্র প্রার্থী সদ্যবিদায়ী মেয়র মনিরুল হক সাক্কু (টেবিল ঘড়ি), নিজাম উদ্দিন কায়সার (ঘোড়া), ইসলামী আন্দোলনের রাশেদুল ইসলাম (হাত পাখা) এবং নাগরিক কমিটির কামরুল আহসান বাবুল (হরিণ)। এছাড়া কাউন্সিলর পদে ১০৮ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৩৬ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এবার মোট ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ২৯ হাজার ৯২০ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ১২ হাজার ৮২৬ জন। আর নারী ভোটার এক লাখ ১৭ হাজার ৯২ জন। এ ছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন দুইজন।

এইচএস/কেএসআর/এএসএম