প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যাকাণ্ডের শিকার যশোর জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি বদিউজ্জামান ধোনীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (১৩ জুলাই) দুপুরে পৌর শহরের বেজপাড়া কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
এদিকে, বদিউজ্জামান হত্যার ২৯ ঘণ্টা পার হলেও এখনো কোনো মামলা হয়নি। পুলিশও জড়িত কাউকে আটক করতে পারেনি। তবে স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। পরিচিত লোকজনই তাকে কুপিয়ে খুন করেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে পৌর শহরের শংকরপুর চোপদারপাড়া আকবরের মোড়ের কাছে নিজ বাড়ির সামনে জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি বদিউজ্জামান ধোনীকে (৫২) কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা।
নিহতের শ্যালক তপু রহমান বলেন, ‘বেলা সাড়ে ১১টায় বাড়ি থেকে বের হয়ে সামনের একটি ফার্মেসিতে বসেছিলেন বদিউজ্জামান। এ সময় স্থানীয় সন্ত্রাসী রায়হান, রহিম, আকাশসহ চার-পাঁচ সন্ত্রাসী তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তাকে উপর্যুপরি কুপিয়ে ফেলে চলে যায় তারা। তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’
তার দাবি, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শামীম আহমেদ মানুয়া নামে এক ব্যক্তি তার ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের দিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। মানুয়াকে ধরতে পারলেই এ হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন হবে।
পুলিশ ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এলাকায় সজ্জন হিসেবে পরিচিতি থাকলেও যুবদল নেতা বদিউজ্জামান ধোনীর বিরুদ্ধে হত্যাসহ সন্ত্রাসবিরোধী ও বিস্ফোরক আইনে ১২টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে যুবলীগকর্মী ইয়াসিন আরাফাত হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামিও ছিলেন তিনি।
১৬ ফেব্রুয়ারি বেজপাড়া ব্রাদার্স ক্লাবের সামনে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন ইয়াসিন আরাফাত। এ মামলায় মাসখানেক আগে ধোনী জেল থেকে বের হয়েছেন। স্থানীয়ভাবে যে মানুয়ার সঙ্গে ধোনীর বিরোধ ছিল, তিনি ইয়াসিন আরাফাতের শ্বশুর।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ হত্যার ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিকভাবে রায়হান নামে এক হামলাকারীকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাকে আটক করতে পারলেই হত্যাকাণ্ডের জট খুলবে।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন র্যাব-৬ যশোর ক্যাম্পের সদস্যরা। এ বিষয়ে র্যাব-৬ যশোরের কোম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার নাজিউর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। র্যাবের পক্ষ থেকে ছায়া তদন্ত চলছে।
যশোর পুলিশের মুখপাত্র গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিদর্শক রূপন কুমার সরকার জাগো নিউজকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। তবে জড়িতদের আটকের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
মিলন রহমান/এসজে/জেআইএম