সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় গোপনে বাল্যবিয়ের আয়োজনে প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়েছেন বরসহ সহযাত্রীরা। এ ঘটনায় ভুয়া কাজি ও মৌলভিসহ কনের খালাকে পৃথকভাবে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
রোববার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিনগত মধ্যরাতে উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উজ্জল হোসেন এ দণ্ড দেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন ভুয়া কাজি উপজেলার অলিপুর গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে মাসুদ পারভেজ (২৭) ও কামারখন্দ উপজেলার বড়কুড়া গ্রামের সাইদুল ইসলামের ছেলে মৌলভি লিয়াকত হোসেন (৩০) এবং কনের খালা উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামের ফাতেমা খাতুন (৪৫)।
এদের মধ্যে মাসুদ পারভেজকে এক বছর, লিয়াকত হোসেনকে একমাস এবং কনের খালা ফাতেমাকে একমাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মাসুদ পারভেজ বড়হর ইউনিয়নের নিবন্ধিত কাজি মুরাদুজ্জামানের পক্ষে দীর্ঘদিন ধরে অপ্রাপ্ত মেয়েদের নিবন্ধিত করতে অভিভাকদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে অবৈধ কাবিননামা তৈরি করে আসছিলেন বলে জানা গেছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামের আব্দুল মমিন সরদারের বাড়িতে ভুয়া কাজি ও মৌলভিকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ওই সময় মমিনের কিশোরীর মেয়ের (ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী) সঙ্গে উল্লাপাড়ার সলঙ্গা ইউনিয়নের ভরমোহনী গ্রামের সুলতান মিয়া নামের এক ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। সংবাদ পেয়ে উপজেলা প্রশাসন একদল পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাল্যবিয়েটি বন্ধ করে। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে বরসহ তার পক্ষের লোকজনসহ বিয়ের আসর থেকে পালিয়ে যান।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উজ্জল হোসেন জানান, ভুয়া কাজির কাছ থেকে দুটি নিকা রেজিস্টার ও কয়েকটি টালি খাতা জব্দ করা হয়েছে। সেইসঙ্গে ১৮ বছরের আগে মেয়েকে বিয়ে দেবেন না মর্মে বাবার কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়।
এসআর/এএসএম