দেশজুড়ে

শার্শায় জমে উঠেছে পটলের হাট

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বৃহৎ পটলের মোকাম শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়ায় জমে উঠেছে পটলের হাট। এই হাট থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার মণ পটল যাচ্ছে ঢাকা, খুলনা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে। কৃষক, ক্রেতা, বিক্রেতাসহ পটল শ্রমিকদের কাটছে ব্যস্ত সময়।লিভার, কিডনী, স্টোমার্ক মেরামতের মহৌষধীর নাম পটল। চলতি মৌসুমে যশোরের শার্শা উপজেলায় ৩২০ হেক্টর জমিতে বারী ১ ও ২ জাতের পটলসহ আরো স্থানীয় পটলের চাষ হয়েছে বলে জানান উপজেলা কৃষি অফিসার হীরক কুমার সরকার। যশোর ও সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে চাষীরা পটল আনেন বাগআঁচড়া মোকামে। হাজারও ক্রেতা বিক্রেতার সমাগম ঘটে এই হাটে। সপ্তাহের সাতদিনই পটলের বাজার জমজমাট থাকে বলে জানান চেয়ারম্যান ইলিয়াস কবির বকুল। তবে স্থায়ী কোনো পটলের বাজার না থাকায় মেইন সড়কের পাশেই বসে পটলের হাট। প্রতিনিয়ত যানজট লেগেই থাকে। স্থায়ী হাটের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরাসহ সর্বসাধারণ।বাগআঁচড়ার পটল আড়ৎ ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিন বিশ্বাস বলেন, এই হাট থেকে প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ হাজার মণ পটল যাচ্ছে বিভিন্ন জেলা শহরে।পাইকারী ক্রেতা ও ব্যবসায়ী মহাসিন আলী বলেন, বাজারে পটলের খুব চাহিদা। কৃষকরা দামও পাচ্ছে ভাল। পটলের ব্যবসা জমে উঠেছে।কলারোয়ার সুলতানপুর থেকে আসা পটল চাষী কামরুজ্জামান ও আরাফাত আলী বলেন, এক বিঘা পটল চাষে খরচ হয় প্রায় ২০ হাজার টাকা। ২০ হাজার টাকার মতো পটল বিক্রি করেছেন। আরও ২৫ হাজার টাকার পটল বিক্রির আশা করেন তারা।বাগআঁচড়া পটল হাটের লেবার সর্দার আনসার আলী বলেন, প্রতিদিন মেইন সড়কের পাশেই হাজার হাজার মণ পটল বেচাকেনা হলেও এখানে স্থায়ী কোনো হাট নেই। প্রতিদিন ঘটছে দুর্ঘটনা। বাড়ছে যানজট।শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নারায়ণ চন্দ্র পাল বলেন, উপজেলায় পটলের বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষকের মধ্যে পটল চাষের আগ্রহ বাড়ছে। আগামীতে আরও অনেক পটল উৎপাদন হবে বলে আশা করছি।শার্শা উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের চাষী আবু রায়হান ও ফরিদ গাজী বলেন, এক বিঘা জমিতে পটল চাষ করতে খরচ হয় প্রায় ২০ হাজার টাকা। তারা ৫ বিঘা জমি চাষ করে এই পর্যন্ত প্রায় ৭০ হাজার টাকার পটল বিক্রি করেছেন। আরও প্রায় ৯০ হাজার টাকার পটল বিক্রির আশা করেন তারা। পটলের সঙ্গে বাড়ছে সাথি ফসলের চাষ।অল্প সময়ে কম খরচে একই জমিতে ঝাল, শাক, টমেটো, পেঁয়াজ, রসুন, ধনে, পটল, কুমড়া ঢেড়সসহ সাথি ফসল চাষ করে লাভবান হচ্ছেন তারা। সংসারে আসছে বাড়তি আয়। একই কথা বলেন বেনাপোলের বেদেপুকুর গ্রামের আব্দুল মান্নান। তিনি বলেন, ধান ও পাট ছেড়ে পটলসহ সবজি চাষ করছি। এতে লাভবান হচ্ছি। তার দেখাদেখি এলাকায় বাড়ছে সাথি ফসলে চাষ। এসএস/এমএস