টেডি ডে'র রম্য গল্প: পিংকুর জবানবন্দি

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৪৮ এএম, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ছবি: এআই

তানজিদ শুভ্র
​শুভ সন্ধ্যা। আমার নাম ‘পিংকু’। গায়ের রং গোলাপি, উচ্চতা দেড় ফুট, পেটের ভেতর ১০০% চায়না তুলা। জন্ম নিউ মার্কেটের এক গিফট শপে, যদিও আমার গায়ে ‘মেড ইন থাইল্যান্ড’ ট্যাগ লাগানো ছিল। ওটা আসলে নীলক্ষেত থেকে ছাপানো।

​আজ ১০ ফেব্রুয়ারি, আমার জন্মদিন। গত বছর ঠিক এই দিনে রন্টু ভাই আমাকে কিনেছিল তার টিউশনির জমানো টাকা দিয়ে। বেচারা আমাকে কেনার জন্য তিন দিন মেসে শুধু ডিম-ভাত খেয়েছিল। উদ্দেশ্য- প্রেমিকা বিন্তির মন জয় করা।

​আমাকে যখন বিন্তির হাতে তুলে দেওয়া হলো, সে কী আদিখ্যেতা! ‘ওলে বাবা লে, কী কুবলুশ!’ বলে আমার গাল টিপে দিয়েছিল। রন্টু ভাই গর্বে বুক ফুলিয়ে বললো, ‘সারাজীবন ও তোমার কাছে থাকবে, আমার ভালোবাসার প্রতীক হয়ে।’

​হায় রে কপাল! রন্টু ভাই জানত না, চাইনিজ পণ্যের মতো আধুনিক প্রেমেরও কোনো গ্যারান্টি নেই। তিন মাস যেতে না যেতেই একদিন বিন্তির ঘরে প্রলয় নেমে এলো। ফোনে ঝগড়া। বিষয়বস্তু- রন্টু ভাই কেন বিন্তির বেস্ট ফ্রেন্ডের ছবিতে ‘হার্ট’ রিয়্যাক্ট দিয়েছে। ব্যাস! ওপাশ থেকে কান্না আর এপাশ থেকে হুঙ্কার। শেষে বিন্তি বলে দিল সেই মোক্ষম ডায়লগ: ‘তোমার সাথে আমার আর পসিবল না। আব্বু মেনে নেবে না।’

ব্রেকআপ হলো রন্টু আর বিন্তির, কিন্তু বাঁশটা খেলাম আমি।

প্রথমে বিন্তি আমাকে জড়িয়ে ধরে তিন ঘণ্টা কাঁদল। আমার গোলাপি পশমগুলো চোখের জলে ভিজে চুপসে গেল (ওয়াটারপ্রুফ ছিলাম না, ম্যানুফ্যাকচারিং ফল্ট)। ভাবলাম, যাক বাবা, অন্তত জড়িয়ে তো ধরেছে! কিন্তু ভুল ভাঙল একটু পরেই।

​কান্না থামলে বিন্তি হঠাৎ মনে হলো, আমি হলাম সেই ‘বিশ্বাসঘাতক’ রন্টুর দেওয়া উপহার। যেই ভাবা সেই কাজ। ঠাস করে আমাকে আছাড় মারা হলো ফ্লোরে। আমার প্লাস্টিকের এক চোখ ছিটকে খাটের তলায় চলে গেল। এরপর শুরু হলো লাথি। বিশ্বাস করেন, মেসিও এত সুন্দর ভলি কিক করতে পারে না। আমি ড্রেসিং টেবিল থেকে ছিটকে গিয়ে পড়লাম বাথরুমের দরজার সামনে।

ব্রেকআপের সাত দিন পর আমার ঠাঁই হলো বিন্তির ছোট ভাই ‘বল্টু’-এর কাছে। বল্টু ক্লাস টু-তে পড়ে, আর ওর হাতুড়ি পেটার শখ আছে। সে আমাকে পেয়ে মহা খুশি। এখন আমার ডান কানে সে স্টেপলার মেরে দিয়েছে। আমার পেটের তুলা বের করে সে দেখছে ভেতরে সত্যি সত্যি কলিজা আছে কি না। গতকাল সে পার্মানেন্ট মার্কার দিয়ে আমার মুখে গোঁফ এঁকে দিয়েছে। এখন আমাকে আর ‘কিউট টেডি’ মনে হয় না, বরং অনেকটা অবসরপ্রাপ্ত রাগী দারোয়ানের মতো লাগে।

আজ টেডি ডে-তে যারা হাজার হাজার টাকা দিয়ে আমার ভাই-ব্রাদারদের কিনছেন, তাদের প্রতি সমবেদনা। আপনারা ভাবছেন প্রেমিকা বা প্রেমিককে ইমপ্রেস করছেন। কিন্তু আসলে আপনারা আমাদের মতো নিরীহ পুতুলদের এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন।

​ব্রেকআপের পর আমাদের ঠাঁই হয় স্টোর রুমের ধুলোয়, ডাস্টবিনের ময়লায়, অথবা ছোট ভাই-বোনের অত্যাচার সেলে। তাই প্রেমিক ভাইরা, দয়া করে টেডি না কিনে চকলেট কিনুন। ব্রেকআপ হলে অন্তত সেটা খেয়ে হজম করে ফেলা যাবে, কিন্তু আমাদের মতো ‘শহীদ’ হতে হবে না!

প্রিয় পাঠক, আপনিও অংশ নিতে পারেন আমাদের এ আয়োজনে। আপনার মজার (রম্য) গল্পটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়। লেখা মনোনীত হলেই যে কোনো শুক্রবার প্রকাশিত হবে।

কেএসকে

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।