সপ্তাহের রসালাপ : জামাই-শ্বশুরের ইয়ার্কি

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:০০ এএম, ০৬ আগস্ট ২০২১

অনেক দিন জামাই শ্বশুরবাড়ি আসে না। সে জন্য শ্বশুরের বড় নিন্দা। গাঁয়ের লোকেরা বলে, তোমাদের বাড়ি জামাই আসে না কেন? নিশ্চয়ই এর মধ্যে একটা গোপন কারণ আছে। কারণ যা আছে, শ্বশুর তো তা ভালোই জানেন। শ্বশুরবাড়িতে জামাইর শালা নেই, শালি নেই। ইয়ার্কি-ঠাট্টা করার কেউ নেই। সে জন্যই তো জামাই শ্বশুরবাড়িতে আসে না।

অনেক ভেবে-চিন্তে শ্বশুর ঠিক করলেন, এবার যেমন করেই হোক, জামাইকে আনতে হবে। না হয় শ্বশুর হয়েই জামাইর সঙ্গে একটু ঠাট্টা-ইয়ার্কি করবেন। বাড়িতে অন্য লোক নেই। কেউ তো দেখতে আসবে না।

একদিন হাটের মধ্যে জামাইর সঙ্গে শ্বশুরের দেখা হলো। শ্বশুর জামাইকে বললেন, ‘তা বাবাজি, আমাদের ওমুখো যে হন-ই না, আজ চলুন আমাদের ওখানে।’ জামাই উত্তর দিলো, ‘আপনাদের ওখানে কী আর যাব! শালা নাই, শালি নাই, কার সঙ্গে কথাবার্তা বলব?’

শ্বশুর মিথ্যা বললেন, ‘তা এবার ঢাকা থেকে আমার এক ভাইজি এসেছে। কলেজে পড়ে। সম্পর্কে তোমার শালি, তার সঙ্গে অনেক হাসি-তামাশা করতে পারবে।’

জামাই রাজি হয়ে শ্বশুরবাড়িতে এলো। এসে দেখে ঢাকা থেকে কেউ আসেনি। শ্বশুর তাকে ফাঁকি দিয়েছেন। জামাই ভাবল, আজকের দিনটি মাটি হল।

শ্বশুর যা ভেবেছিলেন, তা তো তার মনেই আছে! খাবারের সময় হলো। শ্বশুরবাড়ি এসে জামাইরা শালা-শালি নিয়ে এক থালায় ভাত খায়। শ্বশুর তার স্ত্রীকে বললেন, ‘দেখো, বড় থালাখানায় আজ আমাদের ভাত দাও। আমি আর জামাই এক থালায় খাব।’

শ্বশুর আর জামাই একসঙ্গে এক থালায় ভাত খেতে বসলেন। নানা রকম তরকারি দিয়ে খাওয়া চলল। শ্বশুর ভাবলেন, চালাকি করে জামাইকে ক্ষীর খাইতে দেব না। তিনি জামাইকে বললেন, ‘জামাই খাওয়া তো হয়েছে, এবার হাত ধোও।’ জামাই দেখল, শ্বশুর তাকে ক্ষীর না খাওয়াইয়া ঠকানোর মতলব করেছেন।

জামাই তখন এক গল্প ফেঁদে বলল, ‘হাত আর ধোব কি? আপনাদের বাড়িতে আসার সময় সামনে পড়ল এক প্রকাণ্ড সাপ। বললে বিশ্বাস করবেন না, আমাকে না দেখে, ওই যে শিকার ওপরে ক্ষীরের হাঁড়িটা ঝুলছে না? ওই অত উঁচু একটা ফণা মেলে ধরল সাপটা আমার দিকে।’

শ্বশুর দেখলেন, ধরা পড়ে গেছেন। জামাই ক্ষীরের কথা টের পেয়ে গেছেন। তিনি তাড়াতাড়ি বলে উঠলেন, ‘তাই তো! ক্ষীরের কথা তো একেবারে ভুলে গিয়েছি। আনো আনো, ক্ষীর আনো।’

শাশুড়ি একটু মুচকি হেসে তাড়াতাড়ি ক্ষীর এনে দিলেন। ক্ষীরের সঙ্গে মেখে খাওয়ার জন্য কিঞ্চিৎ ভাতও দিলেন জামাই ভাবল, শ্বশুর আমাকে ক্ষীর খাওয়া থেকে বঞ্চিত করছিলেন, এবার আমি তাকে ক্ষীর খেতে দেব না। জামাই শ্বশুরের সঙ্গে গল্প আরম্ভ করল, ‘এখনকার কলিকালের কথা আর কী বলব? বউরা স্বামীকে মানতে চায় না। এই আপনাদের মেয়ে, যাকে আমি বিবাহ করেছি; আমি যদি তাকে বলি এদিক থাকো, সে চলে যায় ওদিকে।’

বলার সঙ্গে সঙ্গে তা দেখানোর অজুহাতে জামাই পাতের ক্ষীরটুকু নিজের দিকে টেনে নিয়ে ভাতগুলো শ্বশুরের দিকে ঠেলে দিলো। শ্বশুর দেখলেন, ঠকানোর মতলবে জামাই তাকে ক্ষীর খেতে দেবে না। আচ্ছা দেখাচ্ছি!

উপদেশের ছলে শ্বশুর জামাইকে বললেন, ‘তা বাবাজি! তোমরা ছেলেমানুষ। মিলমিশ হয়ে থাকো, মিলমিশ হয়ে থাকো।’ বলতে বলতে তা দেখানোর অজুহাতে ক্ষীর ও ভাত একসঙ্গে মেখে ফেললেন।

লেখা ও ছবি: সংগৃহীত

প্রিয় পাঠক, আপনিও অংশ নিতে পারেন আমাদের এ আয়োজনে। আপনার মজার (রম্য) গল্পটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়। লেখা মনোনীত হলেই যেকোনো শুক্রবার প্রকাশিত হবে।

এসইউ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]