হোসি কুনিও হত্যা : বিএনপি নেতা রাশেদুন্নবীর জামিন
রংপুরে জাপানি নাগরিক হোসি কুনিও হত্যা মামলার আসামি বিএনপি নেতা রাশেদুন্নবী খান বিপ্লবের জামিন দিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ মঞ্জুরুল বাছিদ তাকে এক মাসের অন্তবর্তীকালীন জামিন দেন।
এর আগে গত বছরের ৩ অক্টোবর জাপানি নাগরিক হত্যাকাণ্ডের দিন নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার হন ঢাকা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুন্নবী খান সোহেলের ছোট ভাই রংপুর মহানগর বিএনপির সদস্য রাশেদুন্নবী খান বিপ্লব। বিপ্লবের জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আব্দুল মালেক।
বিপ্লবের আইনজীবী আফতাব হোসেন জানান, জাপানি নাগরিক হত্যার পর পুলিশ দুই জেএমবির সদস্যকে গ্রেফতার করে। ওই দুই জঙ্গি জাপানি নাগরিক হত্যার ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। সে কারণে বিপ্লবের এ ঘটনার সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাই রংপুর মহানগর বিএনপি নেতা বিপ্লবেবর পক্ষে রংপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে জামিনের আবেদন করা হয়। আদালত শুনানি শেষে বিপ্লবকে এক মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ৩ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নিজ খামার দেখতে যাওয়ার সময় কাউনিয়া উপজেলার ১নং সারাই ইউনিয়নের কাচুয়া আলুটারী গ্রামে বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হন জাপনি নাগরিক হোসি কুনিও। এ ঘটনায় ওইদিন বিপ্লবসহ কুনিওর ব্যবসায়িক অংশীদার হুমায়ুন কবীর হীরা, মুন্সিপাড়ার জাকারিয়া বালা, ঘটনাস্থলের পাশের বাড়ির মালিক মুরাদ ও রিকশাচালক মোন্নাফকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ। এরপর শনিবার রাতেই কাউনিয়া থানা পুলিশের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা তিনজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এরপর গত ১৩ নভেম্বর মধ্যরাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার বিদিরপুর ও সাতনইল এলাকা থেকে রংপুর নগরীর রাজিব হোসেন ওরফে মেরিল সুমন (২৫), নওশাদ হোসেন ওরফে রুবেল ওরফে কালা রুবেল (২৭) এবং কাজল চন্দ্র বর্মন ওরফে ভরসা কাজলকে (২৫) আটক করে র্যাব-৫ চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্পের সদস্যরা। এসময় তাদের কাছ থেকে একটি পিস্তল, রিভলবার, ম্যাগজিনসহ দুই রাউন্ড গুলি ও একটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের হোসি কুনিও হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।
পরবর্তীতে গত ১০ নভেম্বর কাউনিয়ায় মাজারের খাদেম হতাকাণ্ডের ঘটনায় ২ ডিসেম্বর রাতে জেএমবি নেতা মাসুদ রানাকে ৫৪টি গ্রেনেড তৈরির সরঞ্জামসহ গ্রেফতার করে পুলিশ।
পরে মাসুদ রানা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে গত ৩ অক্টোবর হোসি কুনিওকে গুলি করে হত্যা, ১০ নভেম্বর কাউনিয়ার চৈতার মোড় এলাকার মাজারের খাদেম রহমত আলীকে কুপিয়ে হত্যা এবং ৮ নভেম্বর বাহাই সম্প্রদায়ের নেতা ও রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালকের ব্যক্তিগত সহকারী রুহুল আমিনকে গুলি করে হত্যার চেষ্টায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
মাসুদ রানার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পীরগাছা থানার পশুয়া হাতীবান্ধা গ্রাম থেকে তার অপর সহযোগী খয়বর হোসেনকে গ্রেফতার করে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দায়ের করা মামলায় জেল হাজতে পাঠানো হয়।
এর আগে ৭ ডিসেম্বর জেএমবি সদস্য ও রানার অপর এক সহযোগী ইসাহাক আলীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। হোসি কুনিও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জেএমবি সদস্যদের সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়টি পুলিশ নিশ্চিত করলেও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও অস্ত্র এখনো উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।
জিতু কবীর/এসএস/এআরএ/পিআর