আলী রীয়াজ

ছাত্রলীগকে বলা হতো—তোমরা পরীক্ষায় বসো, চাকরির ব্যবস্থা আমরা করে দেবো

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক রাবি
প্রকাশিত: ০৪:৫০ পিএম, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন আলী রিয়াজ

নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো আওয়ামী লীগের দলীয় কর্মীদের দিয়ে গঠন করা হতো জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান আলী রিয়াজ।

তিনি বলেন, সরকারি কর্ম কমিশনও (পিএসসি) দলীয় প্রভাবমুক্ত ছিল না। ছাত্রলীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ) কর্মীদের উদ্দেশে বলা হতো—তোমরা শুধু পরীক্ষায় বসো, চাকরির ব্যবস্থা আমরা করে দেবো। এটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি প্রতারণা।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রচার-বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন আলী রীয়াজ।

বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মতবিনিময় সভায় আলী রিয়াজ আরও বলেন, দেশের বিচার ব্যবস্থা স্বচ্ছ করা, ফ্যাসিবাদী কাঠামো বিলুপ্ত করা এবং ভবিষ্যতে নিরপেক্ষভাবে জাতীয় নির্বাচন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, জুলাই সনদ শুধু একটি সংবিধান নয়; এটি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার রূপরেখা। এই সনদের মাধ্যমে দেশে জবাবদিহিমূলক বিচার ব্যবস্থা এবং সবার জন্য সমান ও নিরপেক্ষ নির্বাচনি পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

আলী রীয়াজ বলেন, বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে দেশের মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি। এজন্য তিনি সরাসরি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দায়ী করেন। তার দাবি, নির্বাচন ব্যবস্থাকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তাব দিলেও শেখ হাসিনা তা প্রত্যাখ্যান করেন। সেসময় তিনি কমিশনকে উদ্দেশ করে বলেন, দেশের মানুষ কেন ভোট দেবে? আমি যা বলবো তাই করো। এর মাধ্যমেই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

দেশের সাধারণ মানুষ সব ক্ষেত্রে বঞ্চিত হয়েছে এবং বারবার প্রতারিত হয়েছে জানিয়ে আলী রীয়াজ বলেন, এখন সময় এসেছে পুরোনো ফ্যাসিবাদী কাঠামো ভেঙে ফেলার। এই ঐতিহাসিক সুযোগ আমাদের কাজে লাগাতে হবে।

তরুণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা হয়তো সবাই এসব ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট জানেন না। তবে আমি আশা করি, আপনারা বুঝবেন—এই বিষয়গুলো বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মূলনীতির সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ।

মনির হোসেন মাহিন/এসআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।