পুরোনো বাণিজ্যমেলার মাঠ ফেরত চায় শেকৃবি, হবে কৃষি গবেষণা

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক শেকৃবি
প্রকাশিত: ০৪:২৬ পিএম, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পুরোনো বাণিজ্যমেলার মাঠে শেকৃবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমাবেশ/ছবি: জাগো নিউজ

রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পুরোনো বাণিজ্যমেলার মাঠ ফেরত চান পাশের শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, এই জমিতে কৃষি গবেষণা পরিচালনা করা হবে। এক্ষেত্রে বাধা দিলে তা জাতীয় সমস্যায় রূপ নিতে পারে।

দাবি আদায়ে বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ওই মাঠে সমাবেশ করেন শেকৃবির শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা।

‘টেক ব্যাক শেকৃবি ল্যান্ড’ শীর্ষক এ কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষি গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় জমি দ্রুত ফেরত দেওয়ার দাবি জানানো হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় মাঠ-সংকটের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক গবেষণা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

সমাবেশে শেকৃবির অধ্যাপক ড. এম. সালাহউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘শেকৃবির কাজে বাধা দিলে আমাদের সমস্যা জাতীয় সমস্যায় পরিণত হবে। শেকৃবি কোনো ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান নয়, এটি পাঁচ থেকে সাত হাজার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের পরিবার। প্রায় ২০ হাজার সাবেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে জড়িত একটি বড় শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান এটি।’

‘যে কোনো কারণেই হোক, একসময় সরকার এই মাঠটি নিয়েছিল। স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের সময় আমরা কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখতে পারিনি। তবে এই প্রতিষ্ঠানের জমি ছিনিয়ে নেওয়ার মতো শক্তি এই দেশে কারও নেই। ডিসির দপ্তর থেকে আমার সঙ্গে কথা বলতে আসা হয়েছিল। আমি তাদের জানিয়েছি, বিষয়টি কোনো একক ব্যক্তির নয়, কথা বলতে হবে সাত হাজার বর্তমান ও ২০ হাজার সাবেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে,’ যোগ করেন তিনি।

পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠ ফেরত চায় শেকৃবি, হবে কৃষি গবেষণা

আরেক অধ্যাপক ড. এইচ এম এম তারিক হোসেন বলেন, ‘আমরা ঐতিহ্যবাহী কৃষি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এই জায়গার ইতিহাস হয়তো অনেকে জানি না। এখানে আমাদের পোলট্রি ফার্ম, ক্যাটেল ফার্ম ছিল। একটি হল ছিল। হলে কোনো সময় পানি না থাকলে শিক্ষার্থীরা মাঝেমধ্যে এখানে অবস্থিত ‘শান্তির পুকুরে’ গোসল করতে আসতো। এই মাঠ আমাদেরই ছিল। আমাদের প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন যাবৎ স্যাক্রিফাইস করে আসছে। শেকৃবি পরিবার এখন বড় হয়েছে। এই মাঠ এখন আমরা ফেরত চাই। কৃষি কখনও পরিবেশকে বিপন্ন করে না। আমরা এখানে কোনো বিল্ডিং করবো না। এটা আমাদের জায়গা। এটা আমাদের ফিরে পেতেই হবে।’ 

শেকৃবি সাদা দলের সভাপতি অধ্যাপক আবুল বাশার বলেন, ‘মাঠ পুনরুদ্ধার করতে হলে আমাদের দুই দিক থেকেই আগাতে হবে। প্রশাসনিক এবং স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। আমাদের প্রত্যাশা নির্বাচিত সরকার অবশ্যই কৃষিবান্ধব হবে। শেকৃবি বর্তমানে ছয় হাজার লোকের পরিবার। মাঠ পুনরুদ্ধার কমিটির ডাকা কর্মসূচিতে সবাই অংশগ্রহণ করবে- এই প্রত্যাশা রাখি।’ 

উপস্থিত বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতারা জানান, যে কোনো মূল্যে তাদের এই মাঠ ফেরত চান। কোনোভাবেই তারা এই মাঠ আর কারও হাতে তুলে দেবেন না। 

মাঠটি চারটি অনুষদের মধ্যে গবেষণার জন্য প্লট আকারে ভাগ করে দেওয়া হবে বলে সমাবেশ থেকে জানানো হয়। 

এমডি‌এস‌এ/একিউএফ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।