রাবির সাবেক উপাচার্য

দলীয় স্বার্থের সঙ্গে সংবিধান মেলানো প্রতারণা-ছোটলোকি

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক রাবি
প্রকাশিত: ০২:৩৭ পিএম, ০৩ এপ্রিল ২০২৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব বলেছেন, যখনই শুনবেন ‘পবিত্র সংবিধান’ নিয়ে কথা হচ্ছে, তখনই বুঝবেন ধান্দাবাজি হচ্ছে। সংবিধানের একটি লাইনও পবিত্র নয়। গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা। প্রয়োজনে শতবার সংবিধানে পরিবর্তন আসবে। তবে প্রতিটি পরিবর্তন হতে হবে দেশ ও দেশের মানুষের স্বার্থে। দলীয় স্বার্থের সঙ্গে সংবিধান মেলানো প্রতারণা এবং ছোটলোকি।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি।

ওই পোস্টে অধ্যাপক নকীব বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারণা করেছে—করতেই হবে। সেই সরকার ছিল ’২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের ফসল। এই গণঅভ্যুত্থানের সব আকাঙ্ক্ষা তাদের ধারণ করতে হবে। সেই জায়গা থেকেই ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষ নেওয়া। বড় রাজনৈতিক দলগুলো প্রকাশ্যে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এখন কথা পাল্টানো যাবে না।

তিনি বলেন, সংবিধানে গণভোটের কোনো বিধান নেই—এটাও যোগ করতে হবে। সংসদে তৃতীয় শ্রেণির রাজনীতিবিদদের আধিক্য রয়েছে। শুধুমাত্র এদের হাতে দেশ ছেড়ে দেওয়া যাবে না। যে কোনো বড় পরিবর্তনের জন্য দেশের মালিক—আপামর মানুষের মতামত নিতে হবে। সংবিধানে গণভোট নেই—গণভোট যুক্ত করতে হবে।

রাবির সাবেক এই উপাচার্য বলেন, শতকরা প্রায় ৭০ ভাগ ভোটার ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দিয়েছেন। কোনোভাবেই এই সত্য মোছা যাবে না। দেশের মানুষের অভিপ্রায়ই হচ্ছে সংবিধানের ভিত্তি—এটাই শেষ কথা। এই অভিপ্রায় অস্বীকার করার অর্থ হচ্ছে জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া।

রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, বিষয়টি মোটেই কঠিন নয়। বুদ্ধি-বিবেক ঠিক থাকলে রাজনৈতিক দলগুলোর নিজেদের স্বার্থেই এসব নিয়ে ‘তেনা-পেঁচানো’ বন্ধ করতে হবে। পাগলেও নাকি নিজের ভালো বোঝে—সংসদের কিছু ধান্দাবাজকে দেখলে তা বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়। গণমানুষের রায় মেনে নিন—তাতেই সবার জন্য কল্যাণ।

মনির হোসেন মাহিন/কেএইচকে/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।