রাবি শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালা : মুক্তিযুদ্ধের আরেক চেতনা


প্রকাশিত: ০৬:২৪ এএম, ১৩ মে ২০১৫

বাংলাদেশের রাজনৈতিক, সামাজিক আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল স্মৃতি সংরক্ষণাগারের অনন্য এক নাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালা। এখানে শুধু মুক্তিযুদ্ধের নয়, বায়ান্ন’র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি আন্দোলন, সংগ্রামের সকল তথ্য যত্ন সহকারে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোড ঘেঁষে অবস্থিত এ শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালাটির উত্তর-পশ্চিম পাশে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। উত্তরে রয়েছে কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া এবং দক্ষিণে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ।

বাংলাদেশের প্রথম মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সংগ্রহশালা হিসেবে এটি যাত্রা শুরু করে ১৯৭৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। উদ্ধোধন করেন তিন শহীদ পত্নী বেগম ওয়াহিদা রহমান, বেগম মাস্তুরা খানম এবং শ্রীমতি চম্পা সমাদ্দার।

দেশের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্বরূপ স্থানীয় সংগ্রহশালা হিসেবে এর যাত্রা শুরু হয়। এই সমৃদ্ধ সংগ্রহশালাটি ৬৬০০বর্গফুট জায়গায় তিনটি গ্যালারীতে প্রতিষ্ঠিত হয়। নির্ধারিত স্থান না থাকায় বছরের বিশেষ দিনগুলোতে এটা দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করা হতো। শিল্পী ফণীন্দ্রনাথ রায়ের নির্মিত শহীদ মিনারের মুক্তমঞ্চের গ্রিন রুমেই গড়ে উঠে এই শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালা।

১৯৭৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সংগ্রহশালাটি উন্মুক্ত করা হয় দর্শকদের জন্য। একই বছরের ৬ মার্চ রাবির তৎকালীন শিক্ষা উপদেষ্টা আবুল ফজল সংগ্রহশালাাটির প্রথম উদ্বোধন করেন। এরপর ১৯৮৯ সালের ২২ মার্চ রাবির তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক আমানুল্লাহ আহমদ সংগ্রহশালাটির মূল ভবনের ভিত্তি স্থাপন করেন।

এখানে ১৯৫২, ৬৬, ৬৯,ও ৭১সহ বাঙ্গালির সকল আন্দোলন-সংগ্রামের নিদর্শন পর্যায়ক্রমে সংরক্ষিত আছে। এছাড়াও সংগ্রহশালায় উল্লেখযোগ্য দলিলাদির মধ্যে রয়েছে রাবি গণকবর থেকে প্রাপ্ত নাম না জানা শহীদের ব্যক্তিগত তথ্য ও জিনিসপত্র। রয়েছে শহীদ বুদ্ধিজীবী মুনীর চৌধুরী, মোস্তফা হায়দার চৌধুরী, রাশিদুল হাসান, সিরাজউদ্দিন হোসেন প্রমুখের প্রতিকৃতি। রয়েছে ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আত্নসমর্পণ ও বাংলাদেশিদের বিজয়োল্লাশের কিছু চিত্র। রয়েছে শিল্পী কামরুল হাসানের অঙ্কিত মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন পোস্টার। এছাড়া রয়েছে একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার। যা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষকদের জন্য প্রধান সহায়ক। তাছাড়া প্রতিবছর এমফিল,পিএইচডি গবেষকরা সংগ্রহশালাটি ব্যবহার করে থাকেন।

সংগ্রহশালা সূত্রে জানা গেছে, দেশের দর্শনার্থী ছাড়াও আমেরিকা, জাপান, ভারত, সুইডেন, অষ্ট্রেলিয়াসহ পৃথিবীর অনেক দেশের দর্শনার্থী এখানে ঘুরতে আসে। প্রতিদিন কমপক্ষে তিন থেকে চার`শ দর্শক এই সংরক্ষণাগারটি দেখতে আসে। শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালাটির একটি নির্দিষ্ট মঞ্চ রয়েছে। যেখানে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন বিভিন্ন সময় তাদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচিত্র প্রদর্শন করে থাকে। দুর্লভ এই সংগ্রহশালাটির একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল মুক্তিযুদ্ধে অনুপ্রাণীত তৈলচিত্র, ছাপচিত্র ও জলরঙ ছবির সংগ্রহ।

এখানে সংরক্ষিত আছে আমিনুল ইসলাম, মোস্তফা মনোয়ার, রফিকুন্নবী, হাশেম খান, রশিদ চৌধুরী ও দেবদাস চক্রবর্তীসহ বাংলাদেশের প্রধান চিত্রশিল্পীদের কাজ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংগ্রহশালার একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সংগ্রহশালাটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ১জন কিউরেটর, ৩জন কর্মকর্তা এবং ২৩জন সাধারণ কর্মচারীসহ মোট ২৭জন কর্মকর্তা কর্মচারী রয়েছে যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। এছাড়া তিনজন প্রহরী রয়েছে। দেশের প্রথম এই তথ্য সংরক্ষণাগারটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য আরো  কিছু কর্মচারী দরকার বলে মনে করেন এই কর্মকর্তা।

এসএস/এমএস

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - [email protected]