ঢাবিতে ‘জাতীয় পতাকা উৎসব’ ঘিরে আলোকচিত্র প্রদর্শনী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৪৭ এএম, ০২ মার্চ ২০২৬
আলোকচিত্র প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন অতিথিরা

জাতীয় পতাকা উৎসব-২০২৬ উপলক্ষে ‘পতাকায় বিপ্লব ও গৌরব’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভা করেছে ‘বাংলা রেকর্ডস’ । রোববার (১ মার্চ) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলা সংলগ্ন বটতলায় প্রদর্শনীর উদ্বোধন ও আলোচনা সভা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব এবং বাংলা রেকর্ডসের সভাপতি জাফর রাজা চৌধুরী। প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাবির কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ছিদ্দিকুর রহমান খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাহিত্যিক অধ্যাপক ড. কাজী মোস্তাক গাওসুল হক, ডাকসুর সাবেক জিএস এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুব জামান এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আমানুল্লাহ আমান।

বাংলা রেকর্ডসের সভাপতি জাফর রাজা চৌধুরী বলে বলেন, আজ থেকে প্রায় তিন যুগ আগে আমি আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবন শেষ করে সিভিল সার্ভিসে যোগ দেই। সিভিল সার্ভিসে কাজ করার সময় বাংলাদেশে ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টির ওপর একটি অফিস আছে- বাংলাদেশ কপি রাইট অফিস, আমি সেই অফিসে যোগদান করি। সেই অফিসে আমি পাঁচ বছর প্রধান হিসেবে কর্মরত ছিলাম। সে সময় আমি দেখেছি বিশ্বের অন্যান্য জাতি তাদের ইতিহাস অনেক সুন্দরভাবে সংরক্ষণ করে রাখে। যাতে কেউ তাদের ইতিহাস বিকৃত করতে না পারে। বাংলাদেশেও একটি ন্যাশনাল আর্কাইভ রয়েছে। তবে সেটা নামমাত্র। অবসরের পর আমরা কয়েকজন মিলে তাই বাংলা রেকর্ডস প্রতিষ্ঠা করি। আমাদের উদ্দেশ্য হলো আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস ডিজিটালি আর্কাইভ করা।

আরও পড়ুন
‘দ্বিমত হবেই কিন্তু ভাষা নিয়ে বিভাজন সৃষ্টি করা যাবে না’ 
১২০০ নারী শিক্ষার্থী নিয়ে ডাকসুর গণইফতার 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের গ্রন্থাগারিক অধ্যাপক কাজী মোস্তাক গাউসুল হক বলেন, এই জাতীয় পতাকা হুট করে আকাশ থেকে এসে পড়েনি। এর পেছনে রয়েছে একটা দীর্ঘ ইতিহাস। এর পেছনে আছে অনেক মানুষের শ্রম, ঘাম এবং তাজা রক্ত। কাজেই এই পতাকার সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের ঐতিহ্য, আমাদের চেতনা, আমাদের বিশ্বাস এবং আমাদের আত্মপরিচয়।

jagonews24.com

ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমানুল্লাহ আমান বলেন, আমরা দেখেছি যারা ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে বাংলাদেশের বিরোধিতা করেছে, যারা এই স্বাধীন সার্বভৌম দেশের একটি সত্তার পতাকা যাতে আমরা না পাই তার বিরোধিতা করেছে, সেই পুরোনো শকুন আবার বাংলাদেশের পতাকাকে আঁকড়ে ধরতে চায়। এ বিষয়ে আমাদের সজাগ থাকতে হবে।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, এক তারিখে পূর্ব বাংলার মানুষের যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, সেই আন্দোলনের অংশ হিসেবে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে আজ আমরা যে স্থানে দাঁড়িয়ে কথা বলছি তার ঠিক সামনে কলা ভবনের ডিন অফিসের নিকটে তৎকালীন গাড়ি বারান্দা থেকে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। ডাকসুর তৎকালীন ভিপি আ স ম আব্দুর রব জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। সেই পতাকার ডিজাইনার ছিলেন ছাত্রনেতা শিব নারায়ণ দাস। তিনি আজ আমাদের মাঝে নেই।

কেএসআর/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।