চবি প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ১০:৪৫ এএম, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৭ | আপডেট: ১০:৫৫ এএম, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৭

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) প্রশাসনের আশ্বাসে কারাগারে পাঠানো শিক্ষকের মুক্তি দাবিতে ডাকা লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নিল ছাত্রলীগের একাংশের নেতাকর্মীরা।

চলমান লাগাতার অবরোধের ১০ ঘণ্টার মাথায় এমন ঘোষণা আসলো। তবে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিলসহ নানা প্রতিবাদী কর্মসূচি পালন করবে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন অনুসারী ছাত্রলীগের এ অংশটি।

মঙ্গলবার দুপুরে অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন চবি ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও মামলার আসামি আলমগীর টিপু।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয় জানিয়ে তিনি বলেন, সঠিক তদন্তের জন্য সরকারের উচ্চ পর্যায়ে কথা বলেছেন। যাতে সঠিক ঘটনা বের হয়ে আসে। নির্দোষীরা মাফ পায়, দোষীরা যাতে শাস্তি পায়। তবে অবরোধ প্রত্যাহার করে নিলেও ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও কালো পতাকা মিছিলসহ কিছু প্রতিবাদী কর্মসূচি পালন করা হবে।

এর আগে গতকাল সোমবার দিয়াজ হত্যা মামলার আসামি সমাজতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সাবেক সহকারী প্রক্টর আনোয়ার হোসেন চৌধুরীকে কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদে ও তার মুক্তির দাবিতে ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে’ ক্যাম্পাসে লাগাতার অবরোধের ডাক দেয় ছাত্রলীগের এ অংশটি। যার নেতৃত্বে ছিলেন দিয়াজ হত্যা মামলার আসামিরা।

এদিকে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, 'আশ্বাস দিইনি। আমি বলেছি সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি নিরপেক্ষ সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত আসল রহস্য বের করে আনবে গোয়েন্দা সংস্থা। সেখানে হত্যা কি আত্মহত্যা সেটি নির্ধারণ করে যারাই দোষী হবে তাদের যেন কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হয় এজন্য আমি সরকারের সবাইকে অনুরোধ জানাবো।

দিয়াজ হত্যা মামলায় আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো চবি শিক্ষক ও সাবেক সহকারী প্রক্টর আনোয়ার হোসেন চৌধুরীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনো আইনি সহায়তা বা ব্যবস্থা নেয়া হবে কি-না জাগো নিউজ প্রতিবেদকের এ প্রশ্নে উপাচার্য বলেন, 'কোর্ট থেকে যদি কোনো আদেশ আসে অবশ্যই বিধান ও নিয়মানুযায়ী সে আলোকে ব্যবস্থা করা হবে।'

এদিকে মঙ্গলবার অবরোধ প্রত্যাহারের আগ পর্যন্ত কার্যত অচল হয়ে পড়ে চবি শিক্ষা কার্যক্রম। ভোর ৫টায় অবরোধকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে। ফলে শহরে থেকে যেতে পারেনি কোনো শিক্ষক বাস। তবে সকাল ৮টার দিকে পুলিশ গিয়ে প্রধান ফটক খুলে দেয়।

এছাড়া একই দিন সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে ঝাউতলা এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়গামী প্রথম ট্রেনটি পৌঁছালে একটি বগির হোস পাইপ কেটে দেয় অবরোধকারীরা। এতে ক্যাম্পাসে আসতে পারেনি শিক্ষার্থী।

রাকিব/এমএএস/আইআই

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - jagofeature@gmail.com

আপনার মতামত লিখুন :