‘শিক্ষানীতির পাশাপাশি ভাষানীতির প্রণয়নও জরুরি’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক শাবি
প্রকাশিত: ১২:৩৬ পিএম, ২৬ ডিসেম্বর ২০১৭

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অফ বাংলাদেশ স্টাডিজের (আইবিএস) পরিচালক অধ্যাপক ড. স্বরোচিষ সরকার বলেছেন, ২০১০ সালের শিক্ষানীতিতে মাধ্যমিক পর্যায়ের ভাষা মাধ্যম বাংলা এবং কারিগরি শিক্ষাও যাতে বাংলা ভাষায় প্রণয়ন করা হয় সে ব্যাপারে উদ্যোগের কথা বলা হয়। কিন্তু উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ভাষা নিয়ে এ শিক্ষানীতি দোলাচলের মধ্যে থাকে। কারণ এ শিক্ষানীতিতে বলা হয়, উচ্চশিক্ষার শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি হবে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের।

তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষা গবেষণার ভাষা মাধ্যম হওয়া উচিত ছিল প্রথমত বাংলা এবং দ্বিতীয়ত ইংরেজি। শিক্ষানীতিতে ভাষাবিষয়ক এসব দোলাচলের অবসান ঘটাতে শিক্ষানীতির পাশাপাশি একটি ভাষানীতির প্রণয়ন প্রয়োজন।

মঙ্গলবার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কবি আবদুল গফ্ফার দত্ত চৌধুরী স্বারক বক্তৃতায়’ ‘বাংলা ভাষায় উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা’ শিরোনামে একটি প্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় তিনি এসব কথা বলেন। সকাল ১০টায় মিনি অডিটোরিয়ামে এ বক্তৃতার আয়োজন করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমাদের মাতৃভাষা বাংলা অনেক সমৃদ্ধ ভাষা। সর্বক্ষেত্রে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিয়ে হীনমন্যতার কোনো সুযোগ নেই। বরং গবেষণাপত্র প্রকাশসহ অন্যান্য উচ্চতর ক্ষেত্রে বাংলা ভাষা ব্যবহারে আমরা যতটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করব তা অন্য ভাষায় সম্ভব হবে না।

কবি আব্দুল গফ্ফার দত্ত চৌধুরী ট্রাস্ট বোর্ড পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও শাবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইলিয়াস উদ্দিন বিশ্বাসের সভাপতিত্বে স্বারক বক্তৃতায় আরও উপস্থিত ছিলেন- সাবেক সচিব ও কবিপুত্র আলী মোস্তাফা চৌধুরী, সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক আব্দুল গণি।

অনুষ্ঠানের শেষে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে স্বারক বক্তা অধ্যাপক ড. স্বরোচিষ সরকারের হাতে একটি সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন।

উল্লেখ্য, কবি আবদুল গাফ্ফার দত্ত চৌধুরী ১৯১২ সালে ভারতের করিমগঞ্জে জন্মগ্রহণ করে ১৯৬৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন। কবির উত্তরাধিকারীদের সহয়তায় শাবিতে ২০০১ সাল থেকে এ স্বারক বক্তৃতা প্রচলন হয়।

আব্দুল্লাহ আল মনসুর/এএম/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।