ইবিতে ভর্তির ক্ষেত্রে বিভাগীয় সভাপতিদের মত উপেক্ষার অভিযোগ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ০৯:১৬ এএম, ২৮ নভেম্বর ২০২১
ফাইল ছবি

গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল শেষে এরইমধ্যে গুচ্ছভুক্ত কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ও (ইবি) গত ২২ নভেম্বর ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ২৮ নভেম্বর থেকে ভর্তির আবেদন শুরু হয়ে চলবে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ভর্তির ক্ষেত্রে বিভিন্ন শর্ত আরোপ করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে শর্ত নির্ধারণের ক্ষেত্রে ভর্তি পরীক্ষা কমিটির বিরুদ্ধে বিভাগীয় সভাপতিদের একাডেমিক সভার পরামর্শকে উপেক্ষা করার অভিযোগ তুলেছেন অনেক শিক্ষক। বিভাগীয় একাডেমিক সভার পরামর্শ অনুযায়ী দেওয়া ভর্তির শর্ত না মেনে ভর্তি পরীক্ষা কমিটি গতানুগতিক শর্ত আরোপ করেছে বলে অভিযোগ তাদের।

ভর্তি নির্দেশিকায় দেখা যায়, ‘এ’ ইউনিটের বিভাগগুলোতে পরিসংখ্যান ও বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ক্ষেত্রে এসএসসি ও এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় যথাক্রমে গণিত এবং জীববিজ্ঞানে জিপিএ ৩.৫০ থাকতে হবে। এছাড়া বাকি ১৩টি বিভাগের কোনোটিতে গণিত, কোনোটিতে জীববিজ্ঞান আবার কোনো বিভাগে উভয় বিষয় ঐচ্ছিক বা আবশ্যিক থাকতে হবে। ‘বি’ ইউনিটের বিভাগগুলোর ক্ষেত্রে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি এবং আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে শর্ত প্রযোজ্য নেই। ইংরেজিতে ভর্তির ক্ষেত্রে এসএসসি ও এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় এই বিষয়ে জিপিএ ৩.৫০ থাকতে হবে। এছাড়া বাংলায় থাকতে হবে জিপিএ ৩.০০। এদিকে আইন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত বাকি ১০টি বিভাগ এবং ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ছয়টি বিভাগে ভর্তির ক্ষেত্রে ইংরেজিতে জিপিএ ৩.০০ থাকলেই ভর্তি হতে পারবেন উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীরা।

বিভিন্ন অনুষদের কয়েকটি বিভাগের সভাপতি জানান, ভর্তি পরীক্ষা কমিটি বিষয়ভিত্তিক নম্বরের বদলে এসএসসি ও এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষার বিভিন্ন বিষয়ের ওপর পাওয়া জিপিএর ন্যূনতম স্কোরকে মানদণ্ড হিসেবে দিয়েছে। এতে বিভাগের মান ও অবস্থান অনুযায়ী যোগ্য শিক্ষার্থী পাওয়ার বিষয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। এছাড়া ভর্তির ক্ষেত্রে ইউনিটভিত্তিক মেধাতালিকা ও ন্যূনতম স্কোর নিরূপণ না করায় ভর্তি নেওয়ার ক্ষেত্রে বেগ পেতে হতে পারে বিভাগগুলোকে। ইউনিট পরিবর্তন করে ভর্তির ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও জটিল আকার ধারণ করছে। এতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ভোগান্তিতে পড়তে হতে পারে শিক্ষকদেরও।

লোকপ্রশাসন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক লুতফর রহমান বলেন, ‘আমাদের সামাজিক বিজ্ঞানের বিভাগগুলো আরও শক্ত শর্ত দিয়েছিলাম। আগের মতো ইংরেজিতে ১২ পাওয়ার শর্ত দেওয়া হয়েছিল। এখানে শর্ত দিয়েছে ইংরেজিতে জিপিএ ৩.০০ লাগবে। মিনিমাম ৩.০০ প্রায় সবাই পায়।’

ফার্মেসি বিভাগের সভাপতি অর্ঘ্য প্রসূন সরকার বলেন, ‘আমরা শর্ত দিয়েছিলাম জীববিজ্ঞানে ৮ পেতে হবে। কিন্তু পরে জানতে পারলাম, ভর্তি পরীক্ষার পূর্বে শর্ত দিতে হতো। বিষয়টি আগে থেকে গুচ্ছ কর্তৃপক্ষের জানানো উচিত ছিল। এতে শিক্ষার্থীরা পছন্দের বিভাগে ভর্তির জন্য সে অনুযায়ী উত্তর করতো। এটা খুবই খারাপ হয়ে যাবে। কারণ যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়ার যোগ্যতা ছিল না সে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে চলে আসবে। যার ফার্মেসিতে পড়ার যোগ্যতা ছিল না সে ফার্মেসিতে চলে আসবে।’
আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মোশতাক আব্দুল মোকতাদির মুনাওয়ার আলী বলেন, ‘আমরা বিভাগীয় একাডেমিক কমিটি মিটিং করে কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটির কাছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের যেকোনো একটিতে আরবি বিষয় থাকার শর্ত প্রস্তাব করেছিলাম। আমাদের প্রস্তাবিত কোনো শর্তই রাখা হয়নি। প্রশাসন তাদের দর্শন অনুযায়ী নিজেদের মতো করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিষয়টি জানার পর নির্দেশিকা প্রকাশের আগেই মিটিং করে বিভাগ থেকে আবারও জানিয়েছিলাম। কিন্তু প্রশাসন তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করে আমাদের মৌখিকভাবে বিভিন্ন আশ্বাস দিয়েছে। তবে উদ্বেগ ও শঙ্কা থেকেই যায়।’

আল-ফিকহ অ্যান্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আনোয়ারুল ওয়াহাব বলেন, ‘বিভাগীয় একাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভর্তির ক্ষেত্রে মাদরাসা থেকে দাখিল পাশের শর্ত প্রস্তাব করেছিলাম। কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা কমিটি যে প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত নিয়েছে এতে আমাদের কিছু বলার ছিল না।’

ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সদস্য ও নির্দেশিকা প্রকাশ কমিটির আহ্বায়ক এবং বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, ‘পরীক্ষার আগে বিভাগ বা ইউনিটে ভর্তির শর্তের কথা যদি না বলা থাকে তাহলে পরীক্ষার পরে এবং পরীক্ষার বিষয়ের ওপর শর্ত দেওয়া আইনসিদ্ধ নয়। লিখিতভাবে জানানোর পরও সভায় সিদ্ধান্তের পর সভাপতিরা নোট অব ডিসেন্ট দিতে পারতেন। পদ্ধতি নতুন। পরীক্ষার আগের কমিউনিকেশনটা স্ট্রং ছিল না। আমরা অনেক ক্ষেত্রে অনিশ্চিত ছিলাম। পুরো সিস্টেমের ভেতরে যোগাযোগের ঘাটতি ছিল। এটি অস্বীকার করার কোনো কারণ নেই। নতুন পদ্ধতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আগে থেকে কোনো শর্ত দিতে পারেনি।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শেখ আবদুস সালাম বলেন, ‘অন্যান্য বছর বাংলা, ইংরেজি আবশ্যিক থাকে। এবার তা ছিল না। ইউনিটভিত্তিক বিষয় অনুযায়ী পরীক্ষা হয়েছে। সবাই তো আরবি পারে না। প্রথমবারের মতো গুচ্ছ ভর্তি অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাই এবার হয়তো কিছু ট্রায়াল অ্যান্ড ইররের ভেতর দিয়ে যেতে হবে। আমরা চেষ্টা করি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাকে সার্বজনীন করতে।’

ইউএইচ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]