ইবির ‘পোস্টার ট্রি’র জীবনাবসান
কুুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রধান ফটকের ছবি সামনে এলেই ফুটে উঠতো লাল কৃষ্ণচূড়ার ছবি। কেননা কৃষ্ণচূড়া গাছটিকে নিয়েই প্রধান ফটকের ছবি তোলা হতো। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থিত এ গাছের নিচেই বিভিন্ন সময়ে হয়েছে আন্দোলন-সংগ্রাম আর অনুষ্ঠান। অনেকের কাছে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘পোস্টার ট্রি’।
গাছটি আর স্বাগতম জানাবে না। আর কোনো ছবিতে ভাসবে না তার প্রতিচ্ছবি। শনিবার (১৫ জানুয়ারি) কালের সাক্ষী অনিন্দ্য সুন্দর এ গাছটি কেটে ফেলা হয়। এর আগে গত মৌসুমে অনাবৃষ্টি আর অযত্নে মারা যায় গাছটি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা গাছটির বিদায় দেখতে জড়ো হন শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। অনেকেই মোবাইলে গাছটির শাখা-প্রশাখা কর্তনের ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, বছরখানেক আগে জীবনাবসান ঘটে শত শত ঘটনার সাক্ষী এ গাছটির। এরপর থেকে পাতাহীন রিক্ত শাখা-প্রশাখা নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। অবশেষে এটিকে কেটে ফেলা হয়েছে।

বসন্তে কৃষ্ণচূড়ার লাল আভায় রঙিন হয়ে উঠতো প্রধান ফটক। ভেতরে প্রবেশ করা বিদ্যার্থীদের জন্য যেন এটি পরিণত হয়েছিল ‘লাল গালিচায়’। বিস্তৃত শাখা-প্রশাখা মেলে আগলে রেখেছিল ফটক প্রাঙ্গণকে। যা এখন শুধুই ইতিহাস।
গাছটির ফুল দেখে অনেকেরই ভাষ্য ছিল, অন্য কোথাও এত ফুলসমৃদ্ধ কৃষ্ণচূড়া গাছ দেখেননি তারা। ভর্তি পরীক্ষা দিতে এসে গাছটির প্রেমে পড়ার কথাও জানান শিক্ষার্থীদের অনেকে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষের অবহেলা আর অযত্নে মারা গেছে গাছটি। তারা একইস্থানে নতুন করে আরেকটি কৃষ্ণচূড়ার চারা রোপণের দাবি জানিয়েছেন।
সকালে গাছটি কাটা শুরু হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে গাছ কাটার কয়েকটি ছবি ও ভিডিও পোস্ট করেন অনেকে। গাছটিকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করে আবেগী ক্যাপশন দেন তারা। এসব পোস্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা গাছটির বিদায়ে আবেগমাখা নানা মন্তব্য করেন। কয়েকজন শিক্ষার্থী ফেসবুক লাইভে আবেগপ্রবণ ধারাভাষ্যের সঙ্গে গাছটি কাটার দৃশ্য প্রচার করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী জান্নাতুল মীরা বলেন, এটি একটি বাধ্যতামূলক আত্মহত্যার গল্প। গাছেরও জীবন আছে, কিন্তু কিছু বলার ক্ষমতা নেই। যদি থাকতো হয়তো চিৎকার করে বলতো, ‘হে মানুষ, তোমরা বড়ই অকৃতজ্ঞ’!
গাছটি কাটার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, শুকিয়ে যাওয়া ডাল-পালা ভেঙে দুর্ঘটনার আশঙ্কায় গাছটি কাটা হয়েছে। ওই জায়গায় আরেকটি কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা রোপণ করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ও সাবেক শিক্ষার্থী অধ্যাপক ড. আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘গাছটির মৃত্যুতে আমরাও শোকাহত। তবে খুব দ্রুতই একই জায়গায় আরেকটি কৃষ্ণচূড়া গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।’
এসআর/জেআইএম