তনু হত্যা : দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ ও বিচার দাবি


প্রকাশিত: ০৫:৫০ পিএম, ২৩ মে ২০১৬

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর ধর্ষণের আলামত সম্বলিত ডিএনএ প্রতিবেদন পেতে তদন্ত সংস্থা সিআইডির সঙ্গে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের চিঠি চালাচালি শেষ হলেও বিষয়টি যাচ্ছে আদালত পর্যন্ত।

গত ৫৪ দিনেও দেয়া হয়নি দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন। তাই অবিলম্বে দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ ও তনুর হত্যার বিচারের দাবিতে কুমিল্লার সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে নগরীতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করা হয়েছে। সোমবার বিকালে নগরীর কান্দিরপাড় টাউন হল গেটে ওই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

অবিলম্বে দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি জানিয়ে এতে বক্তব্য রাখেন সনাক কুমিল্লার সাবেক সভাপতি ও বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক বদরুল হুদা জেনু , বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এইড কুমিল্লার নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া বেগম শেফালী, নাট্যকার শাহজাহান চৌধুরী, প্রত্যয়ের নির্বাহী পরিচালক মাহমুদা আক্তার, চিশতী সমাজকল্যাণ সংস্থার আয়শা সিদ্দিকা।

বক্তারা জানান, গত ২০ মার্চ তনুর মরদেহ কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়। কিন্তু দুই মাস অতিবাহিত হলেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা এখনো এ হত্যার রহস্য বের করা তো দূরের কথা এখনো জানা যায়নি তাকে কেন, কীভাবে এবং কারা হত্যা করেছে।

বক্তারা আরো বলেন, প্রথম ময়নাতদন্তে রহস্যজনক কারণে তনুকে হত্যার আলামত পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে, তাহলে তনুর মৃত্যু হলো কিভাবে? বক্তারা অবিলম্বে দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশসহ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার ও বিচার দাবি করেন।

উল্লেখ্য, গত ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি জঙ্গল থেকে তনুর মরদেহ উদ্ধারের পরদিন প্রথম ময়নাতদন্ত এবং ৩০ মার্চ কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করে দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত এবং বিভিন্ন ডিএনএ আলামত সংগহ করা হয়। এরই মধ্যে গত ৪ এপ্রিল তড়িঘড়ি করে তনুর প্রথম ময়নতদন্ত রিপোর্ট দেয়া হয়। এতে তনুকে হত্যা কিংবা ধর্ষণের আলামত ছিল না।

কিন্তু গত ৫৪ দিনেও নানা অজুহাতে দেয়া হয়নি দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন। এরই মধ্যে ডিএনএ প্রতিবেদনে তনুকে ধর্ষণের আলামত পাওয়ায় সিআইডি থেকে সেই আলোচিত ডিএনএ প্রতিবেদন পেতে এখন দৌড়ঝাঁপ চালাচ্ছে কুমেকের ফরেনসিক বিভাগ।

এ বিষয়ে সোমবার দুপুরে ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. কেপি সাহা জানান, আইনজীবীদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে, আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই আগামী ২/১ দিনের মধ্যে ডিএনএ প্রতিবেদনের জন্য আদালতে আবেদন করা হবে।

এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে মঙ্গলবার সকালে ফরেনসিক বিভাগে ময়নাতদন্তকারী ৩ সদস্য বোর্ডের একটি সভা হতে পারে বলেও ডা. কেপি সাহা জানিয়েছেন।

মো. কামাল উদ্দিন/বিএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।