মাত্র ৩০ হাজারে মীমাংসা...


প্রকাশিত: ০১:০৭ পিএম, ০২ জুন ২০১৬

নাটোরে এক মানসিক প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের পর ৩০ হাজার টাকায় রফাদফার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার সকালে ধর্ষকের চাচা স্থানীয় ইউপি সদস্য হয়রত আলীর বাড়িতে এ রফাদফার ঘটনা ঘটে। এসময় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল বাতেন ভূঁইয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

নির্যাতিত কিশোরীর পরিবার জানায়, বুধবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার কাঠালবাড়িয়া এলাকায় মানসিক প্রতিবন্ধী কিশোরী বাড়িতে একাই ছিলেন। এই সুযোগে প্রতিবেশি মোহম্মদ আলীর বখাটে ছেলে শরিফুল ইসলাম বাড়িতে ঢুকে কিশোরীকে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়। পরে প্রতিবন্ধী কিশোরীর বাবা-মা বাড়িতে ফিরে বিষয়টি বুঝতে পেরে চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে নিয়ে আসতে চাইলে বাধা দেয় বখাটের পরিবার। পরে রাত ১০টার দিকে ধর্ষিত কিশোরীকে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) জানান, হাসপাতালে ভর্তির পর ধর্ষিতার আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। ল্যাবে পরীক্ষা চলছে, রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এদিকে, বিষয়টি মীমাংসার জন্য রাত থেকেই ধর্ষিত পরিবারকে চাপ দিতে থাকে বখাটের পরিবার ও প্রভাবশালীরা। পরে বৃহস্পতিবার সকালের দিকে ওই কিশোরীকে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে যায় তার পরিবার। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ধর্ষকের চাচা স্থানীয় ইউপি সদস্য হয়রত আলীর বাড়িতে মীমাংসা বৈঠক বসানো হয়।

বৈঠকে বখাটে শরিফুল ইসলামকে চর থাপ্পড় মেরে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করে ছেড়ে দেয়া হয়। এসময় লক্ষ্মীপুর খোলাবাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল বাতেন ভূঁইয়াসহ স্থানীয় গণ্যমাণ্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

ওই কিশোরীর মামা জানান, স্থানীয় চেয়ারম্যান আব্দুল বাতেন ভূঁইয়া এবং ইউপি মেম্বারসহ দুই পরিবারের লোকজন নিয়ে বিষয়টি মীমাংসা জন্য বৈঠক হয়। পরে ৩০ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসা করা হয়।

তিনি আরো জানান, বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য রাত থেকেই প্রভাবশালীরা চাপ প্রয়োগ করে আসছিল। অনেকটা বাধ্য হয়েই মীমাংসা মেনে নিয়েছি।

সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ধর্ষণের ঘটনা কোনো ভাবেই রফাদফা করার সুযোগ নেই। কেউ যদি রফাদফা করে থাকে তাহলে আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। ওই কিশোরীর পরিবার যদি কোনো অভিযোগ দেয় তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর খোলাবাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল বাতেন ভূঁইয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন নন্দনের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম জানান, বিষয়টি এখনো অবগত নয়, তবে সেখানে স্থানীয় সংগঠনের মাধ্যমে খোঁজ খবর নিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রেজাউল করিম রেজা/এআরএ/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।