লালপুরে অপহৃত দুই স্কুলছাত্রকে ঢাকা থেকে উদ্ধার


প্রকাশিত: ১০:১৩ এএম, ০৩ জুন ২০১৬

নাটোরের লালপুরে অপহৃত দুই স্কুলছাত্রকে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে স্টেশনের ৭নং প্লাটফরম থেকে তাদের উদ্ধার করে রেলওয়ে পুলিশ। তাদের অপহরণ করা হয়েছিল না তারা স্বেচ্ছায় পালিয়ে ছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

অপহৃত রাব্বি হোসেনের বাবা মুকুল হোসেন জানান, লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর মোশাররফ হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র রাব্বি হোসেন ও তার মামাতো ভাই করিমপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র রাহেল গত ২৫ মে এক সঙ্গে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। পরে মোবাইল ফোনে তাদের পরিবারের কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে কথিত অপহরণকারীরা। এ অবস্থায় দুই শিক্ষার্থীর খরচ বাবদ পরিবারের সদস্যরা বিকাশের মাধ্যমে ৮ হাজার টাকা পরিশোধ করে।

মুকুল হোসেন আরো জানান, অপহরণের কয়েকদিন আগে একই গ্রামের বাকীরুল আমাদের বাড়ির আম গাছ থেকে আম চুরি করার সময় রাব্বি ও রাহেল দুই ভাই তাদের ভূত সেজে ভয় দেখায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বাকীরুলসহ তাদের পরিবারের লোকজন  রাব্বিও রাহেলকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে একটি অচেনা নম্বর থেকে রাব্বি ফোন দিয়ে কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে তাদের উদ্ধার করতে বলে। অপরদিকে কমলাপুর রেল স্টেশনে রাবিব ও রাহেলের কান্নাকাটি দেখে রেলওয়ে পুলিশ তাদের হেফাজতে নেয় এবং মুকুল হোসেনকে ফোনে আশ্বস্ত করেন। বিষয়টি লালপুর থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে লালপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম জানান, যে মোবাইল থেকে টাকা দাবি করা হয়েছিল তা রেজিস্ট্রিবিহীন একটি সিম। পুলিশ মোবাইলকারীর অবস্থান কোথায় তা জানা গেলেও ওই ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা যায়নি।

অপরদিকে, পূর্ব বিরোধের কারণে অপহৃত হয়েছে কিনা সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আব্দুলপুর গ্রামের বাকীরুল, মাহিদুল ও সাত্তারকে গত বুধবার আটক করা হয়েছে।

ওসি আরো জানান, তারা অপহৃত হয়েছিল না পালিয়েছিল তা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। তাদের লালপুর থানায় নিয়ে আসার জন্য ঢাকায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

রেজাউল করিম রেজা/এআরএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।