কুমিল্লায় প্রবাসী ময়নালের মরদেহ উদ্ধার


প্রকাশিত: ০৮:০৬ এএম, ১৪ জুন ২০১৬

কুমিল্লার মুরাদনগরে স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমে বিরোধ ও সম্পত্তি আত্মসাতের জেরে খুন হওয়া সৌদি প্রবাসী ময়নাল হোসেনের মরদেহ সাড়ে ৭ মাস পর উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ মুরাদনগর উপজেলার আন্দিকোট ইউনিয়নের জাড্ডা হাহাতি খাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। গত বছরের ১ নভেম্বর রাতে ওই প্রবাসীর স্ত্রী তাছলিমার ভাড়াটে খুনিরা ময়নালকে হত্যা করে তার মরদেহ খালের নিচে পুতে রেখেছিল।  

মরদেহ উদ্ধার প্রক্রিয়ায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) আলী আশরাফ ভূইয়া, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলী আজগর, ডিবির ওসি একেএম মঞ্জুর আলম, বাঙ্গরা থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির এসআই সহিদুল ইসলাম। মরদেহ উদ্ধারের সময় ওই প্রবাসীর ২ ঘাতক বদি ডাকাত ও বাবু মিয়া সেখানে উপস্থিত ছিল।

এদিকে মরদেহের উদ্ধার প্রক্রিয়া দেখতে সকাল থেকেই সেখানে আশপাশের এলাকার কয়েক হাজার নারী পুরুষ সমবেত হয়। এসময় মরদেহ দেখে ময়নালের মা ও স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা ঘাতকদের ফাঁসি দাবি করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির এসআই সহিদুল ইসলাম জানান, গত ১২ জুন কসবা থেকে প্রবাসী ময়নালের ঘাতক মুরাদনগর উপজেলার জাড্ডা গ্রামের সোনা মিয়ার ছেলে বদি আলম ওরফে বদি ডাকাত (৩৫) এবং একই উপজেলার সোনারামপুর গ্রামের চারু মিয়ার ছেলে বাবু মিয়াকে (২৫) গ্রেফতারের পরই তারা মরদেহ গুম করার স্থানটি সনাক্ত করে। পরে মরদেহ উদ্ধারে রোববার আদালতে আবেদন করলে আদালত মরদেহ উদ্ধার ও ময়নাতদন্ত করতে ফরেনসিক বিভাগকে ৩ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠনের নির্দেশ দেন।

গত বছরের ৩০ অক্টোবর ময়নাল হোসেন দেশে আসার পর শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে বিদেশে থেকে পাঠানো অর্থের হিসাব এবং স্ত্রীর পরকীয়ার বিষয়ে স্ত্রীর সঙ্গে কলহে জড়িয়ে পড়েন। এতে তার স্ত্রী ক্ষিপ্ত হয়ে ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে ৬ জন সন্ত্রাসীর সঙ্গে চুক্তি করে। পরিকল্পনা মোতাবেক গত বছরের ১ নভেম্বর রাতে ৩ লাখ টাকা পরিশোধ করার পর সন্ত্রাসীরা কৌশলে ওই প্রবাসীকে তার শ্বশুর বাড়ি থেকে উঠিয়ে নিয়ে বাড়ির অদূরে খাল পাড়ে নিয়ে হত্যা করে মরদেহ সেখানে ফেলে দেয়।

গত ৮ মার্চ কুমিল্লা নগরী থেকে মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির এসআই শাহ কামাল আকন্দ নিহতের স্ত্রী তাছলিমাকে গ্রেফতার করার পরই তার স্বীকারোক্তিতে বেরিয়ে আসে হত্যার চাঞ্চল্যকর কাহিনী। পরদিন গ্রেফতার করা হয় তাছলিমার প্রেমিক শরিফুল ইসলামকে। গত ১০ মার্চ নিহতের স্ত্রী তাছলিমা আক্তার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের নাম প্রকাশ করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার পরই ডিবি পুলিশ অপর আসামিদের গ্রেফতার অভিযানে নামে।

বর্তমানে এই মামলায় কারাগারে আটক রয়েছে ওই প্রবাসীর স্ত্রী তাছলিমা আক্তার, তার নিকটাত্বীয় জাকির, জুয়েল ও  প্রেমিক শরিফুল ইসলাম। সর্বশেষ ১২ জুন গভীর রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা থেকে গ্রেফতার করা হয় অন্যতম ঘাতক ও মরদেহ গুমে জড়িত বদি আলম ও বাবু মিয়াকে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির এসআই সহিদুল ইসলাম আরও জানান, মরদেহের ময়নাতদন্ত করতে কুমেক হাসপাতাল মর্গে নেয়া হবে। সেখানে ৩ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।  

কামাল উদ্দিন/এফএ/এবিএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।