নির্মাণ সামগ্রীর দখলে শরীয়তপুরের কলেজ মাঠ
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিকেনগর বঙ্গবন্ধু ডিগ্রি কলেজের মাঠ দখল করে নির্মাণ সামগ্রী রাখা ও পিচ গলানোসহ যাবতীয় কাজ করছেন এলজিইডির এক ঠিকাদার। এতে ব্যহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম।
সরেজমিনে দিয়ে দেখা যায়, জাজিরা পৌরসভার কাউন্সিলর ইদ্রিস মিয়া বিকেনগর বঙ্গবন্ধু ডিগ্রি কলেজ গেট থেকে কিনাউল্লাহ মাদবর কান্দি পর্যন্ত এলজিইডির দেড় কিলোমিটার রাস্তা তৈরির কাজ পেয়েছেন। যা বৃহত্তর ফরিদপুর প্রকল্প নামে এলজিইডির আওতায় ৩৪ লাখ টাকার কার্পেটিং রাস্তার কাজ। উক্ত কাজের প্রয়োজনে ইদ্রিস মিয়া ইট, পাথর, বালু ও পিচের ড্রাম দিয়ে কলেজ মাঠ দখল করে রেখেছেন।
পাথর ও ইট ভাঙার ধুলা এবং পিচ গালানো ধোঁয়ায় কলেজের শ্রেণিকক্ষগুলো অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যায়। আবার গলানো পিচের তীব্র এবং ঝাঁঝালো গন্ধে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ক্লাস করতে পারছেন না। পারছেন না কলেজ মাঠে খেলাধুলা করতে। ঠিকাদারকে বার বার বলার পরও তিনি তার দখল বজায় রেখে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিকেনগর বঙ্গবন্ধু ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থীরা জানান, ঠিকাদার ইদ্রিস মিয়া প্রভাবশালী হওয়ায় তার কাছে আমাদের অনুরোধ কোনো কাজে আসেনি। পিচ গালানো ধোঁয়ায় আমাদের ক্লাস করতে সমস্যা হচ্ছে। ইট, পাথর, বালু ও পিচের ড্রাম দিয়ে কলেজ মাঠ দখল করায় আমরা পারছি না খেলাধুলা করতে।
জাজিরা উপজেলার এলজিইডির গাইট পরিদর্শনের দায়ীত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী রুমি বলেন, মালামাল রাখার ব্যবস্থা ঠিকাদার নিজ দায়িত্বে করবেন। এ বিষয়ে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
তবে জাজিরা পৌরসভার কাউন্সিলর ঠিকাদার ইদ্রিস মিয়া বলেন, এটা সরকারি কাজ তাই আমি কলেজ মাঠ ব্যবহার করছি। শিক্ষার্থীদের আমি ক্লাশ করতে নিষেধ করিনি। কাজ শেষ হতে আর দুদিন লাগবে। কাজ শেষ হলে কলেজ কর্তৃপক্ষ মাঠ বুঝে নেবে এবং পরিস্কার করাবে।
বিকেনগর বঙ্গবন্ধু ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ বিএম আলমগীর হোসেন বলেন, রাস্তার কাজের ধুলা ও ধোঁয়া কিছুটা সমস্যা করছে। শিক্ষার্থীরা ক্লাস করতে পারছে না। আমি ঠিকাদারকে কলেজ মাঠে এ সকল মালামাল না রাখার জন্য এবং চুলা বানিয়ে পিচ গলাতে নিষেধ করেছি। কিন্তু তিনি শোনেননি। আমি আর কি করতে পারি।
ছগির হোসেন/এফএ/এবিএস