নিজ আসনে ৭০০ শাড়ি ১০০ থ্রি-পিস পেয়েছেন, জানালেন নুরুল হক নুর
এবার ঈদে নিজ আসনে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ৭০০ সিন্থেটিক শাড়ি ও ১০০ পিস থ্রি-পিস পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনের সংসদ সদস্য নুরুল হক নুর।
সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে পটুয়াখালীর গলাচিপা পৌরসভার শান্তিবাগ এলাকায় গলাচিপা খাল ও এর শাখা খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ড. মো. শহীদ হোসেন চৌধুরী। এসময় স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর তার বক্তব্যে বলেন, ‘এবার ঈদ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে আমাদের এই আসনের জন্য ৭০০টি সিন্থেটিক শাড়ি ও ১০০টি থ্রি-পিস দেওয়া হয়েছে। এগুলো নেতাদের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। তবে বিষয়টি নিয়ে কেউ কেউ নেতিবাচক মন্তব্য করছেন, যা সঠিক নয়। অনেকেই মনে করছেন শুধু সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের দেওয়া হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে এটি সব সংসদ সদস্যদেরই দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার গলাচিপা ও দশমিনা—এ দুই উপজেলায় মোট ১৯টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভা রয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে আবার ৯টি করে ওয়ার্ড আছে। যদি প্রতিটি ওয়ার্ডে ১০০টি করে দিতে হয়, তাহলে প্রায় দুই হাজারের মতো লাগবে। কিন্তু আমার কাছে মোট আছে ৭০০টি শাড়ি ও ১০০টি থ্রি-পিস, অর্থাৎ ৮০০টি পোশাক। তাই স্বাভাবিকভাবেই সবাইকে একসঙ্গে দেওয়া সম্ভব নয়।’
এসময় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যারা এবার পাবেন না, তারা পরবর্তী সময়ে সিরিয়াল অনুযায়ী পাবেন। তাই এ নিয়ে অযথা বিতর্ক বা নেতিবাচক মন্তব্য না করার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।’
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলার জন্য ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই অর্থ ২০টি ইউনিয়নে ভাগ করে প্রতিটি ইউনিয়নকে ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। তবে ঈদের আগে ওই টাকা পাওয়ার সম্ভাবনা কম বলে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলে জেনেছেন তিনি। ঈদের পরেই সেই অর্থ পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সৌদি বাদশাহর পক্ষ থেকে দেওয়া খেজুরও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিতরণ করা হয়েছে বলে জানান নুরুল হক নুর। এ বিষয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কোন কোন প্রতিষ্ঠান খেজুর পেয়েছে তার তালিকা প্রকাশ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
নুরুল হক নুর বলেন, ‘সরকার কী কী সুবিধা দিচ্ছে এবং জনগণ কী পাচ্ছে তা মানুষের সামনে তুলে ধরার জন্য আমরা এসব তথ্য প্রকাশ করছি। এর আগে অনেক সংসদ সদস্য কী পেয়েছেন বা কোথায় দিয়েছেন তা প্রকাশ করতেন না, কিন্তু আমরা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চাই।’
মাহমুদ হাসান রায়হান/এসআর/এএসএম