অপহরণের দায়ে এএসআইসহ দুইজন কারাগারে


প্রকাশিত: ০৩:০৬ এএম, ২২ জুন ২০১৬

গাজীপুরে অপহরণের পর বাসায় আটকে নির্যাতন করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে পুলিশের এক এএসআইসহ দুইজনকে গ্রেফতার এবং অপহৃত গার্মেন্ট শ্রমিক নাছিরকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার বিকেলে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। অপহৃত নাছির গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক এলাকার লিবাস গামের্ন্টের সুইং অপারেটর এবং গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুরের মাধবপুর এলাকার মৃত নছু মিয়ার ছেলে।
 
এদিকে গ্রেফতারকৃতরা হলেন, ঢাকার হাজারীবাগ থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. শাহ আলবাব বিল্লাহ (৪২) ও গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ি বাঘিয়া এলাকার সোহরাব সরকারের ছেলে রায়হান সরকার (৪০)। এসময় অন্য দুই অপহরণকারী রাব্বানী ও মমিন পালিয়ে যায়। এএসআই আলবাব বিল্লাহ তিন মাস আগে গাজীপুর ডিবি পুলিশে কর্মরত ছিলেন।

জয়দেবপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রুহুল আমিন জানান, নাছির (২৫) সোমবার ভোরে ফজরের নামায আদায় করে কাশিমপুরের মাধবপুর এলাকার মসজিদ থেকে বাসায় ফিরছিলেন। এসময় এএসআই বিল্লাহ ও তার তিন সহযোগী ডিবি পুলিশ পরিচয়ে হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে তাকে জোরপূর্বক প্রাইভেটকারে উঠিয়ে চোঁখ বেধে নির্যাতন শুরু করে। পরে তারা নাছিরের সঙ্গে থাকা আড়াই হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে নেয়।

তারা ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে ঘুরায় এবং নাছিরের মা পারভীন আক্তারের কাছে মোবাইলে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা না দিলে ছেলেকে গুলি করে হত্যার হুমকিও দেয় তারা। পরে নাছিরের মা পারভীন আক্তার ছেলের জীবন বাঁচাতে তাদের দেয়া বিকাশ নম্বরে বিশ হাজার ও চাচা আকবর আলী দশ হাজার টাকা পাঠান। বাকি টাকার জন্যে সন্ধ্যায় এএসআই বিল্লাহর জয়দেবপুর শহরের সাহাপাড়ার বাসায় এনে নাছিরের উপর নির্যাতন শুরু করে।
 
বাড়ির মালিক অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মো. নজরুল ইসলাম ঘটনা আঁচ করতে পেরে জয়দেবপুর থানা পুলিশকে জানায়। খবর পেয়ে পুলিশ সোমবার রাত ১০টার দিকে এএসআই বিল্লাহর বাসা থেকে নাছিরকে উদ্ধার এবং তাদের গ্রেফতার করে। রাতেই নাছিরকে অসুস্থ অবস্থায় গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় নাছিরের মা পারভীন আক্তার বাদী হয়ে জয়দেবপুর থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে গ্রেফারকৃতদের মঙ্গলবার বিকেলে গাজীপুরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইকবাল মাসুদের আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
                
আমিনুল ইসলাম/এফএ/এবিএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।