দুই হাজার হেক্টর জমিতে চাষ হচ্ছে না রোপা আউশ
চাঁদপুরের মতলব উত্তরে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পে স্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমিতে রোপা আউশ চাষ করা যাচ্ছে না।
১৯৮৭-৮৮ সালে মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্প নির্মাণ হয়। এরপর প্রকল্প এলাকায় ৩৫ হাজার হেক্টর জমির মধ্যে উচু জমিতে পানি নিষ্কাশন ক্যানেল না থাকায় প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো এবং রোপা আউশ ও আমন চাষ করা যাচ্ছে না। এর মধ্যে এখন দেখা দিয়েছে নতুন করে স্থায়ী জলাবদ্ধতা।
সেচ প্রকল্পের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মূল ক্যানেল, ট্রেইনেতা ক্যানেল, বাঁধ-সংলগ্ন খাল এবং পানি নিষ্কাশনের ক্যানেলগুলো ভরাট, ভারী আকারে কচুরিপানা জমাটের কারণে পানি নিষ্কাশন খুব ধীরে হচ্ছে। সেচ প্রকল্পের দুটি স্লুইচ গেট চালু রাখলেও মেশিনগুলো পানি না পাওয়ার কারণে পানি নিষ্কাশন করা যাচ্ছে না।
একদিকে পানি না পাওয়ায় নিষ্কাশন করা যাচ্ছে না অপরদিকে পানি না সরার কারণে বিলগুলোতে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমাট হয়ে আছে। ফলে সেচ প্রকল্পের অন্তত ১০টি বিলে এবারের বর্ষায় রোপা আউশ চাষ করা যাচ্ছে না। যার কারণে মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পে এবারের রোপা আউশ মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নাও হতে পারে।
সেচ প্রকল্পের অভ্যন্তরে ঝিনাইয়া বিল, দুর্গাপুর বিল, সুজাতপুর বিল, ইসলামাবাদ বিল, ইন্দুরিয়া বিল, কিনারচর বিল, পুটিয়ারপাড় বিল, ব্রাহ্মণচক বিলসহ ১০টি বিল ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও-কোথাও হাঁটুপানি আবার কোথাও কোমর পর্যন্ত পানি জমে আছে। স্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে অনেক কৃষকের বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এই মৌসুমে উফশী আউশ জাতের ব্রি-৪৮, ৫৫, বিআর-৩, ১৬, ২৮ জাতের ধান চাষ করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল কাইয়ুম মজুমদার জাগো নিউজকে জানান, এ মৌসুমে স্থানীয় জাতের প্রায় ৫০০ হেক্টর জমিতে রোপা আউশ চাষ করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, সেচ প্রকল্পের ভেতরে ২০০ হেক্টর জমি স্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে কোনো ধানই চাষ করা সম্ভব হয় না।
মেঘনা-ধনাগোদা পানি ব্যবস্থাপনা অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সরকার মো. আলাউদ্দিন জাগো নিউজকে জানান, প্রকল্পের বিলে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে। স্থায়ী জলাবদ্ধতার বিলগুলো পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ইকরাম চৌধুরী/এসএস/এমএস