গলাচিপায় নাব্য সংকটে নৌ চলাচলে ভোগান্তি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৯:৫৪ এএম, ০৪ জানুয়ারি ২০২৬

উপকূলীয় তীরবর্তী অঞ্চল হওয়ায় পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় খাল ও নদী জালের মতো ছড়িয়ে রয়েছে। তবে নদ-নদীতে ডুবোচর জেগে ওঠায় ক্রমেই কমে যাচ্ছে নাব্যতা। ফলে নৌযান চলাচলে দেখা দিয়েছে তীব্র সংকট। প্রতিদিনই লঞ্চ ও ট্রলারকে দীর্ঘ পথ ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে, এতে সময় ও অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি ভোগান্তিতে পড়ছেন কর্মব্যস্ত যাত্রীরা।

স্থানীয়রা ও নৌযান সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সঠিক নজরদারি ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই এই নাব্য সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। শুকনো মৌসুমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নৌযান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা ও স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দা সোবাহান বলেন, শুকনো মৌসুমে ডুবোচরের কারণে প্রায় প্রতিদিন রাত ১০টার দিকেই লঞ্চ ঘাট ছেড়ে এক থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে নোঙর করতে হয়। তা না হলে সকালে জোয়ারের সময়েও লঞ্চ ঘাট থেকে ঠিকমতো ছাড়তে সমস্যা হয়। অনেক সময় জোয়ার-ভাটার হিসাব করে ঘুরে পথে চলতে হয়।

ব্যবসায়ী শিপন চৌধুরী বলেন, চর কাজল এলাকার জিনতলা চ্যানেল ইতোমধ্যে পলিমাটি জমে সিলড হয়ে গেছে। ফলে ছোট-বড় লঞ্চ ও ট্রলার প্রায়ই ডুবছে আটকে পড়ছে, ঘটছে দুর্ঘটনাও মালামালের ঝুঁকি বাড়ছে। অন্য রুটগুলোতেও ঝুঁকি নিয়ে পানি মেপে মেপে নৌযান চলাচল করতে হচ্ছে, যা নৌ যোগাযোগকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। এতে যেরকম আমাদের পণ্য পরিবহনে দেরি হচ্ছে তেমনি ব্যবসার ক্ষতি হচ্ছে

স্থানীয় বাসিন্দা আলম মিয়া বলেন, ডুবোচর সৃষ্টির কারণে উপজেলার একমাত্র নৌরুট রামনাবাদ চ্যানেল কার্যত নষ্ট হয়ে গেছে। একই সঙ্গে আগুনমুখা নদীর মোহনা সংকীর্ণ হয়ে পড়ায় গলাচিপা–চরমন্তাজ ও উলানিয়া রুটে নৌ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বৃহত্তর গলাচিপা উপজেলার গলাচিপা–রাঙ্গাবালী (মৌডুবি) রুটে চলাচলকারী মেসার্স অমি শিপিংয়ের এমভি নবনীতা লঞ্চের মাস্টার মো. সাহেদ সরদার বলেন, গলাচিপার আগুনমুখা নদীর মোহনায় অসংখ্য ডুবোচর জেগে উঠেছে। চরপাঙ্গাসিয়া, মাঝের চর, রাঙ্গাবালীর চরনজির ও গাইয়াপাড়া এলাকাতেও নাব্য সংকট তীব্র।

পটুয়াখালী জেলা নৌ বন্দরের সহকারী পরিচালক ও সহকারী বন্দর ও পরিবহণ কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও শুকনো মৌসুমে ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। গলাচিপার লঞ্চঘাটসহ অন্যান্য সমস্যাকবলিত এলাকাগুলোতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি বড় পরিসরে ড্রেজিংয়ের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে, তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

মাহমুদ হাসান রায়হান/এনএইচআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।