শেরপুর
জেঁকে বসেছে শীত, ফুটপাতে জমে উঠেছে গরম কাপড় বিক্রি
বেড়ে গেছে শীতের তীব্রতা। শীতের এই দাপটে শেরপুরের ফুটপাতের দোকানগুলোতে বেড়ে গেছে গরম কাপড়ের বেচাকেনাও। জেলা শহরে সন্ধ্যার পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত বিভিন্ন মোড়ের ফুটপাতগুলোতে বসছে পুরোনো গরম কাপড়ের দোকান। শহরের বড় শোরুমগুলোর চেয়ে ফুটপাতের দোকানে বেশি ভিড় জমাচ্ছেন ক্রেতারা।
শুক্র, শনি ও রোববার (৪ জানুয়ারি) শেরপুরের নিউমার্কেট, শহীদ স্কয়ার, নয়ানী বাজার, আখের মামুদ বাজার, বাসস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন এলাকার ফুটপাতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। বিভিন্ন শ্রেণিপেশার লোকজন ভিড় জমিয়েছেন এসব দোকানে। দোকানে সোয়েটার, জ্যাকেট, কানটুপি, মাফলার, হুডি, প্যান্টসহ নানা ধরনের শীতের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে। আর দোকানগুলোতে মানভেদে বড়দের কাপড়ের দাম ১০০-১০০০ টাকা পর্যন্ত এবং শিশুদের জন্য বিভিন্ন ধরনের শীতবস্ত্র মিলছে ৫০-৩০০ টাকার মধ্যে।
অস্থায়ী এসব দোকানের ব্যবসায়ীরা বলছেন, হঠাৎ তীব্র শীত অনুভূত হওয়ায় গরম কাপড়ের চাহিদা বেড়েছে। একসময় নিম্ন আয়ের মানুষেরাই আমাদের ক্রেতা ছিল, কিন্তু এখন সব শ্রেণির লোকজন ভিড় করছেন কাপড় নিতে।
ফুটপাতের দোকানে কাপড় কিনতে আসা চরশেরপুরে ইউনিয়নের যোগিনীমুড়ার শাহ জাহান তালুকদার বলেন, এই সময়ের শীত নিবারণের জন্য প্রয়োজন মোটা গরম কাপড়। মার্কেটে মোটা কাপড় পেলাম না খুঁজে। কিন্তু এখানে এসে চাহিদার সোয়েটারটি পেয়েছি। আর দামও তুলনামূলক কম।

আরেক ক্রেতা সাদিয়া আক্তার বলেন, এই ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোতে বিভিন্ন রকমের সোয়েটার, চাঁদর, শাল, হুডি, জ্যাকেট, মাফলার, শীতের গেঞ্জি, নতুন পুরোনো কমফোর্টার, কম্বল, হাতমোজা, কান-টুপিসহ বিভিন্ন আইটেমের শীতবস্ত্র পাওয়া যাচ্ছে। আমাদের পছন্দসই গরম পোশাক এখান থেকে নিয়ে নিচ্ছি।
ফুটপাত থেকে নিজের জন্য সোয়েটার কিনতে আসা গোলাম মোস্তফা নামে একজন বাইকার বলেন, আমি একটি কোম্পানির মার্কেটিং বিভাগে কাজ করি। দিনে যেমন-তেমন সন্ধ্যা নামলে শীতে আর মোটরসাইকেল চালানো যায় না। তাই একটি মোটা কাপড়ের সোয়েটার নিলাম সাতশ টাকা দিয়ে।
নিউমার্কেট এলাকার এক দোকানি বলেন, গত এক সপ্তাহে বেচাবিক্রি ভালোই হচ্ছে। ভেবেছিলাম এবার মূলধন উঠবে না। তবে আল্লাহর রহমতে লাভের মুখ দেখবো।
শহীদ স্কয়ারে ভ্যানে করে গরম কাপড় বিক্রি করেন শাহাদাৎ হোসেন। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, গত কয়েকদিনে বিক্রি বেড়েছে। আমার ভ্যানে মোজা, ট্রাউজার আর হুডি বিক্রি করছি। বিভিন্ন শ্রেণির লোকজন কেনাকাটা করছেন।
শেরপুর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আলহাজ আরিফ হাসান জাগো নিউজকে বলেন, সন্ধ্যার পর নিউমার্কেট ও শহীদ স্কয়ার এলাকায় কয়েকটি দোকানের ভেতরে শীতের পুরাতন কাপড় বিক্রি করা হয়। শীতের প্রকোপ বাড়ায় এখন বিক্রিও জমজমাট। আবার বাইরে ফুটপাতে ভ্যানেও এসব কাপড় বিক্রি হচ্ছে। তবে কোনোভাবেই সড়কে এসব দোকান বসানো যাবে না এবং পথচারীদের যেন কোনো ভোগান্তি না হয় সেদিকে ব্যবসায়ীদের খেয়াল রাখতে হবে।
মো. নাঈম ইসলাম/এমএন/জেআইএম