অনুমোদন ছাড়াই প্রকল্পের নামে কাটা হলো ৩ হাজার গাছ

উপজেলা প্রতিনিধি
উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি ঈশ্বরদী (পাবনা)
প্রকাশিত: ০৯:২৪ এএম, ০৭ জানুয়ারি ২০২৬

পাবনার ঈশ্বরদীতে নর্থবেঙ্গল সুগার মিলের আওতাধীন মুলাডুলি বাণিজ্যিক খামারে উন্নয়ন প্রকল্পের নামে প্রায় ৩ হাজারের বেশি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। বন বিভাগের অনুমোদন কিংবা কোনো ধরনের নিলাম বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই নির্বিচারে এই গাছগুলো কেটে ফেলা হয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) পানাসি সেচ প্রকল্পের আওতায় ‘ভ্যালি ইরিগেশন’ নামের একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে মুলাডুলি বাণিজ্যিক খামারের সরদারপাড়া থেকে ১০ নম্বর সেক্টর পর্যন্ত ক্যানাল খননের সময় ক্যানালের দু’পাশে থাকা পুরোনো মেহগনি, শিশু, খয়ের, রেন্টি কড়াই ও খেজুরসহ প্রায় ৩ হাজারের বেশি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, সরকারি বিধি অনুযায়ী বনবিভাগ থেকে গাছের মূল্য নির্ধারণ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এবং নিলাম বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গাছ বিক্রির নিয়ম থাকলেও এখানে কোনো নিয়ম মানা হয়নি।

এ বিষয়ে মুলাডুলি খামারের ইনচার্জ আনোয়ারুল ইসলাম আমিন বলেন, কেটে ফেলা গাছগুলোর কিছু নর্থবেঙ্গল সুগার মিলে আগুন হিটের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ভ্যালি ইরিগেশন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এলাকাবাসী, মিল ও দেশ উপকৃত হবে। তাই এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য গাছ কেটে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হামিদ বলেন, প্রকল্পের প্রয়োজনের তুলনায় যে পরিমাণ গাছ কাটা হয়েছে তা অযৌক্তিক ও অসংগত। এতে খামারের প্রাকৃতিক পরিবেশ পুরোপুরি বদলে গেছে।

হাসানুর রহমান নামে আরেকজন বাসিন্দা বলেন, প্রয়োজন হলে যথাযথ প্রক্রিয়ায় দরপত্র ও মূল্য নির্ধারণের মাধ্যমে গাছ কাটা যেত। কিন্তু এখানে হাজারো গাছ নির্বিচারে কেটে ফেলা হয়েছে।

অনুমোদন ছাড়াই প্রকল্পের নামে কাটা হলো ৩ হাজার গাছ

এ বিষয়ে নর্থবেঙ্গল সুগার মিলের জিএম (প্রশাসন) আনিসুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে গেলে তার কার্যালয় তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। একইভাবে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফরিদ হোসেন ভূঁইয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চাইলে প্রথমে তিনি অনুপস্থিত বলে জানানো হয়। পরে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করে খামারি প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।

খামারি প্রধান বাকী বিল্লাহর কার্যালয়েও তালা ঝুলতে দেখা যায় এবং মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এদিকে, ঈশ্বরদী জোনের বিএডিসির সহকারী প্রকৌশলী (ক্ষুদ্রসেচ) সুমন চন্দ্র বর্মন জানান, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আপনারা জেলা প্রধান কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলুন।

তবে বিএডিসি পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আহমেদের মোবাইল ফোন একাধিকবার যোগাযোগ চেষ্টা করেও বন্ধ পাওয়া গেছে।

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। পরিবেশবাদীরা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

শেখ মহসীন/কেএইচকে/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।