নেত্রকোনা

ধর্ষণের শিকার কিশোরীর নবজাতকের দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে মানববন্ধন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ০৯:৫৫ পিএম, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
অভিযুক্তকে গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন করেন এলাকাবাসী

নেত্রকোনার বারহাট্টায় ধর্ষণের শিকার এক কিশোরী (১৪) সন্তান প্রসব করেছে। তার গর্ভে জন্ম নেওয়া শিশুরটির দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নেওয়াসহ অভিযুক্তকে গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বারহাট্টা উপজেলা প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে সচেতন নাগরিক সমাজের বানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

গত ২২ ডিসেম্বর সকালে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে ছেলে সন্তানের জন্ম দেয় ওই কিশোরী। তার আগে গত ৫ এপ্রিল ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। পরে মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে চন্দ্রপুর গ্রামের মো. গোলাম কিবরিয়া (২৮) নামের এক যুবককে প্রধান আসামি করে দুজনের নামে মামলা করেন।

বেসরকারি সংস্থা নারী প্রগতি সংঘের উন্নয়ন কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলামের পরিচালনায় ঘণ্টাব্যাপী চলা মানববন্ধনে বক্তব্য দেন নারী প্রগতি সংঘের কেন্দ্র ব্যবস্থাপক সুরজিত কুমার ভৌমিক, বারহাট্টার গোপালপুর বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু হানিফ, জাতীয়তাবাদী সংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব অলিউল্লাহ রায়হান, উপজেলা ইয়ুথ গ্রুপের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সালিপুরা গন্ধরাজ নারী সমিতির সভাপতি সাবিকুন্নাহার মণি, ওই কিশারীর মা-বাবা প্রমুখ।

স্থানীয় বাসিন্দা, মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী কিশোরীর সঙ্গে প্রতিবেশী গোলাম কিবরিয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। এতে সহযোগিতা করেন প্রতিবেশী পারুল আক্তার (৪০) নামের এক নারী। সবশেষ গত ৫ এপিল আবার ধর্ষণ করেন।

এতে মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে কিবরিয়ার কাছে বিয়ের দাবি জানালে তিনি স্বীকৃতি জানান। পরে কিশোরীর বাবা বাদী ৩ সেপ্টেম্বর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। পরে ওইদিন রাতে পারুল আক্তারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে এখন পর্যন্ত কিবরিয়াকে গ্রেফতার করা যায়নি।

নেত্রকোনা/ ধর্ষণের শিকার কিশোরীর নবজাতকের দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে মানববন্ধন

গত ২২ ডিসেম্বর ভুক্তভোগী কিশোরী একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেয়। বর্তমানে শিশুটি অসুস্থ হয়ে বারহাট্টা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

বারহাট্টা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ওই কিশোরীসহ শিশুটিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’

ওই কিশোরীর মা বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। আমার স্বামী ভাড়ায় মাইনসের অটোরিকশা চালায়। কিবরিয়া আমার মেয়েডারে ধর্ষণ করে সর্বনাশ করেছে। তার ছেলে সন্তান জন্ম নিছে। পুলিশ অহনো কিবরিয়ারে গ্রেফতার করতে পারতাছে না। মামলা তুইল্লা নিতে তার পরিবারের লোকজন আমরারে হুমকি ভয়-ভীতি দেহায়। আমার মেয়ে ও তার গর্ভে জন্ম নেয়া শিশুডারে সঠিক খাওন ও চিকিৎসা দিতে পারতাছি না। আমরা ন্যায় বিচার চাই।’

নারী প্রগতির কেন্দ্র ব্যবস্থাপক সুরজিত ভৌমিক বলেন, ‘ধর্ষণের শিকার শিশুটি এখন মা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে চিকিৎসা ও আইনগত সহায়তা দিয়ে আসছি। তবে অভিযুক্ত কিবরিয়াকে গ্রেফতার করতে পুলিশ ব্যর্থ হয়েছে। ধর্ষণের শিকার শিশুটির গর্ভজাত সন্তানের দায়িত্ব কে নেবে? আমরা চাই আসামিকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনাসহ নবজাতক শিশুটি যেন পিতৃপরিচয় পায়। সেইসঙ্গে ভরণপোষণের ব্যবস্থা রাষ্ট্রকেই নিতে হবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত কিবরিয়ার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মামলার পর থেকে তিনি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে রয়েছেন।

বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিবিরুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্তকে গ্রেফতারে পুলিশি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

এইচ এম কামাল/এসআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।