নুরের হয়ে কাজ করায় ছাত্রদল নেতাকে হুমকির অভিযোগ মামুনের বিরুদ্ধে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পটুয়াখালী
প্রকাশিত: ০১:৩৮ পিএম, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬

পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা–গলাচিপা) আসনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের পক্ষে প্রচারণায় থাকায় ছাত্রদলের এক নেতাকে ফোনে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের বিরুদ্ধে। এ সংক্রান্ত একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ভাইরাল হওয়া ফোনালাপে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি আবু হুরায়রাকে জেরা করতে শোনা যায়। হাসান মামুন তাকে প্রশ্ন করেন, ‘দলের নির্দেশে ভিপি নূরের পক্ষে কাজ করতে তোরে কে বলছে? জবাবে আবু হুরায়রা বলেন, সিনিয়ররা বলছে, নমিনির পক্ষে কাজ করতে হবে’। এরপর হাসান মামুন জানতে চান, ‘কোন সিনিয়র বলছে তোমারে? আমাদের দলের চেয়ারম্যান স্যারের নির্দেশ নাকি? জবাবে হুরায়রা বলেন, ‘পার্টির নির্দেশ, পার্টি থেকে যে নমিনি পাবে তার পক্ষে কাজ করতে হবে।’

কথোপকথনের একপর্যায়ে হাসান মামুন বলেন, ‘এই নির্দেশ কি শুধু তোমার জন্য, নাকি সবার জন্য? দশমিনায় কী তোমার চেয়ে বড় নেতা নাই?’ জবাবে হুরায়রা বলেন, ‘অবশ্যই নেতা আছে, সবাইকে নমিনির পক্ষে কাজ করতে হবে’। একপর্যায়ে হাসান মামুন তাকে হুমকি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী নুরুল হক নূর বলেন, তারেক রহমান আমাকে এই আসনে মনোনয়ন দিয়েছেন। কিন্তু যারা আমার সঙ্গে কাজ করছেন, তাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে, মারধর করা হচ্ছে। এমনকি নির্বাচনি অফিসও ভাঙচুর করা হয়েছে। প্রশাসনকে জানিয়েও কার্যকর পদক্ষেপ পাচ্ছি না। এতে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিয়ে আমি শঙ্কিত

বিষয়টি নিয়ে ছাত্রদল নেতা আবু হুরায়রা বলেন, দলের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে এসে নিজ জেলায় হুমকি খেতে হচ্ছে। নির্বাচনের পরে এই স্বতন্ত্র প্রার্থী এলাকায় কী করবেন, তার নমুনা এখনই পেলাম।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ জিল্লুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা–গলাচিপা) আসনে বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে নুরুল হক নুরকে সমর্থন দিয়ে দলীয় প্রার্থী দেয়নি। তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হওয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কারের পরও তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘ঘোড়া’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন।

মাহমুদ হাসান রায়হান/কেএইচকে/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।