শেরপুরে নির্বাচনি ইশতেহার অনুষ্ঠানে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত অর্ধশত

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি শেরপুর
প্রকাশিত: ০৫:৪১ পিএম, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
শেরপুরে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন অর্ধশত।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত থেমে থেমে ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদ মাঠ এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচনি ইশতেহার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের কর্মী-সমর্থকরা চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। এতে উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক কর্মী-সমর্থক আহত হন। এসময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে দুজন সাংবাদিকও আহত হন এবং তাদের সঙ্গে থাকা একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।

নির্বাচনি ইশতেহার অনুষ্ঠানে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ২৫

সংঘর্ষের খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান। 

এ বিষয়ে শেরপুর-৩ আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, ‘আমরা দুই থেকে আড়াইশ লোক ইশতেহার ঘোষণা মঞ্চে যাই। কিন্তু সেখানে চেয়ার দখল করে বসে ছিল জামায়াতের হাজার পনেরো শ লোক। মঞ্চে আসতে আমার একটু দেরি হয়। একপর্যায়ে বিএনপির নিরস্ত্র নেতাকর্মীদের ওপর জামায়াতের লোকজন হামলা করে। আমাদের ৪০ জন নেতাকর্মীকে গুরুতর আহত করেছে। আমরা এর বিচার চাই।’

তবে জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাফিজুর রহমান বলেন, ‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা প্রতিটি প্রার্থীর মৌলিক অধিকার। কিন্তু প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের এ সশস্ত্র সন্ত্রাসী হামলা প্রমাণ করে, তারা কখনো অবাধ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চায় না। আমাদের ৩৫ জন নিরীহ নেতাকর্মীকে বিএনপির সন্ত্রাসীরা মেরে গুরুতর আহত করেছে। কয়েকজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আমরা এ ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানাচ্ছি।’

শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

মো. নাঈম ইসলাম/এসআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।