বিএনপির সভায় দীর্ঘ বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ১৪
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচনি সভায় দীর্ঘ বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ১৪ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরের দিকে ভাঙ্গা উপজেলার চুমুরদি ইউনিয়নের বাবলাতলা গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইস্রাফিল মোল্যা এবং ওয়াদুদ মোল্যা, শাহাবুদ্দিন মোল্যা, চান মিয়া গ্রুপ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় পার্শ্ববর্তী ঘারুয়া ইউনিয়নের গঙ্গাধরদি গ্রামে ফরিদপুর-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুলের নির্বাচনি সভা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগদান করেন তারা। এ সভায় শহিদুল ইসলাম বাবুলের উপস্থিতিতে উভয়পক্ষের নেতারা বক্তব্য রাখেন। এ সময় ইস্রাফিল মোল্যা দীর্ঘ বক্তব্য দেওয়ায় ওয়াদুদ মোল্যার সমর্থক শহিদুল ইসলাম শান্ত নামে এক যুবক বাধা দেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়।
এর জের ধরে বুধবার দুপুরে ইস্রাফিল মোল্যার ছোট ভাই জাকারিয়া মোল্যার ওপর হামলা চালায় প্রতিপক্ষ। পরে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে জাকারিয়া মোল্যা (৩৭), জাহিদ মোল্যা (৩৮), লাভলী বেগম (৪৫), জাহিদ মোল্লা (৩৭), ইয়াদ আলী মোল্লা (৩৫), রাজন মোল্লাসহ (২২) বেশ কয়েকজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। খবর পেয়ে থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত জাকারিয়া মোল্যা নিজেদের বিএনপি সমর্থক দাবি করে বলেন, সভায় আমার ভাই একটু সময় নিয়ে বক্তব্য দিলে শান্ত নামে একজন পেছন থেকে কটাক্ষ করেন। এ সময় তর্কবিতর্ক হয়, এরপর আজ আমাকে একা পেয়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়েছে৷ আমাদের বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে অপরপক্ষ ওয়াদুদ মোল্যা গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ফরিদপুর-৪ আসনের বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুলের মোবাইলে কল করেও পাওয়া যায়নি। তিনি মোবাইল রিসিভ করেননি।
ঘটনাটি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলিম জাগো নিউজকে বলেন, গতকাল একটি সভায় বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানতে পেরেছি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ দায়ের করেননি।
এন কে বি নয়ন/এনএইচআর/জেআইএম