ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক দিয়ে স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছেন যাত্রীরা


প্রকাশিত: ১০:৫০ এএম, ০৫ জুলাই ২০১৬

গাজীপুরের জয়দেবপুর চৌরাস্তা থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত মহাসড়ক ৪ লেনে উন্নীত হওয়ায় যানজটমুক্ত পরিবেশে অতি অল্প সময়ে যাত্রীরা যেতে পারছেন তাদের গন্তব্যে।

এরই মধ্যে শনিবার মহাসড়কটি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মহাসড়কটির নির্মাণ কৌশল এবং প্রশস্ততায় মুগ্ধ এলাকাবাসী। আর পুলিশ বলছে, মহাসড়ক ৪ লেন থাকায় এবারের ঈদে কোনো যানজটের আশঙ্কা নেই।

প্রধানমন্ত্রীর উপহার পাওয়ার খবরে আনন্দে উদ্বেল বৃহত্তর ময়মনসিংহের ৬ জেলার প্রায় সাড়ে ৩ কোটি বাসিন্দা।
জানা যায়, বৃহত্তর ময়মনসিংহের ৬ জেলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা আরামদায়ক, সহজতর, নিরাপদ ও যানজটমুক্ত করতে উদ্যোগ নেয় সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় ময়মনসিংহ নগরীর চরপাড়া মোড় থেকে জয়দেবপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত ৮৭ দশমিক ১৮ কিলোমিটার মহাসড়ক ফোর লেনে উন্নীত করার কাজ শুরু হয়, যা ২০১৩ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল।

বর্তমান সরকার প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ২০১০ সালের জুলাইয়ে জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ ফোর লেন প্রকল্পের অনুমোদন দেয়। অনুমোদনের সময় এ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ৯৯২ কোটি টাকা। আর প্রকল্পের কাজ শেষ করার মেয়াদ বেধে দেওয়া হয়েছিল ২০১৩ সালের জুন মাস। কিন্তু পরবর্তী সময়ে নানা কারণে প্রকল্পের মেয়াদ কয়েক দফা বাড়ানো হয়। একইসঙ্গে বেড়ে যায় ব্যয়ও। সর্বশেষ এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৮৮০ কোটি টাকা।

আরও জানা যায়, কাজটি ভাগ করা হয় চারটি প্যাকেজে যা জয়দেবপুর থেকে ত্রিশালের নয়নপুর পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার দুই প্যাকেজের কাজ করে সেনাবাহিনী। ২০১৫ সালের মধ্যেই সেই কাজ শেষ হয়। নারায়ণপুর থেকে নয়নপুর পর্যন্ত আরো ৩০ কিলোমিটারের কাজ পায় পিবিএল। আর নারায়ণপুর থেকে ময়মনসিংহ নগরীর চরপাড়া মোড় পর্যন্ত অংশের কাজ শেষ করে তমা গ্রুপ। কিন্তু তৃতীয় প্যাকেজেই গোল বাধায় পিবিএল। তারা ঢাকা থেকে ময়মনসিংহমুখী লেনের কাজ শেষ করে। এরপর তাগাদা সত্ত্বেও তারা আর ময়মনসিংহ থেকে ঢাকামুখী অংশের কাজ এগুতে পারেনি। শেষতক বেঁধে দেওয়া সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় বাকি কাজ শেষ করার দায়িত্ব দেওয়া হয় সেনাবাহিনীকে।

জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ ৪ লেনের উন্নীতকরণের কাজ শুরু হয় ২০১২ সালের ২৩ ডিসেম্বর। সেনাবাহিনীর ১৭ইসিবির তত্বাবধানে জয়দেবপুর চৌরাস্তা প্রায় ৬০ কিলোমিটার সড়কটি নির্মাণ করা হয়। এ অংশে একটি ফ্লাইওভার, ৫৫টি কালভার্ট এবং বেশ কয়েকটি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। মহাসড়কটি প্রশস্তকরণ ও ৪ লেনে উন্নীত করায় এখন এই মহাসড়কে যানজট নেই বললেই চলে। দ্রুতগতিতে যানবাহন চলতে পারায় অল্প সময়ে নির্ধারিত গন্তব্যে যেতে পারছেন চালক ও যাত্রীরা।
 
মহাসড়কের নির্মাণ কৌশল এবং নয়নাভিরাম সৌন্দর্য্যে মুগ্ধ সাধারণ এলাকাবাসী। তবে মহাসড়কের কয়েকটি পয়েন্টে সড়কের পাশে অবৈধ ট্রাকস্ট্যান্ড তৈরি করে যানজট। মহাসড়কটি প্রশস্ত আর ৪ লেনে উন্নীত করায় যানজট হচ্ছেনা জানিয়ে গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানান, আসন্ন ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছতে কোনো ভোগান্তি হবে না। যানজট নিরসনে গাজীপুর পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে। যানজট পর্যবেক্ষণ করতে ওয়াচ টাওয়ার ও সিটি টিভি স্থাপন করা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি পর্যাপ্ত কমিউনিটি পুলিশ মোতায়ের রয়েছে। এবার উত্তরাঞ্চলের ৩৬টি জেলার মানুষ নির্বিঘ্নে ঈদ করতে বাড়ি যেতে পারবে।

আমিনুল ইসলাম/এমএএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।