চুলার পাশে লবণ রাখলেও তাপে নষ্ট হয় আয়োডিন
ময়মনসিংহের বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার সাহা বলেছেন, কোনো জাতির বুদ্ধিমত্তা বাড়াতে হলে আয়োডিন বাড়াতে হবে। এজন্য লবণে আয়োডিন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু রান্নার সময় বেশি তাপের কারণে আয়োডিন নষ্ট হচ্ছে। চুলার পাশে লবণ রাখলেও তাপে আয়োডিন নষ্ট হয়ে যায়। এ বিষয়ে নারীদের সচেতন থাকতে হবে, সচেতন করতে হবে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে ময়মনসিংহ স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অধীনে ‘সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন’ (এসডিএফ) আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রেজিলিয়েন্স এন্ট্রাপ্রেনিয়রশিপ অ্যান্ড লাইভলিহুড ইমপ্রুভমেন্ট (আরইএলআই) প্রকল্পের আওতায় ময়মনসিংহ বিভাগে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নারীদের ভূমিকা ও স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ক এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
স্বাস্থ্য পরিচালক বলেন, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পেলেও পুষ্টিতে আমরা এখনো পিছিয়ে আছি। স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে জরা, ব্যধি কমেনি। এখনো মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যু বেশি। এসডিজির কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন হয়নি।
এসডিএফ ময়মনসিংহ অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক সৈয়দ মো. মোসাদ্দেক হোসেনের সভাপতিত্বে এবং এমইএল অ্যান্ড এমআইএস’র আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক নাইমুর রহমানের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক মো. মতিউর রহমান, উপ-পরিচালক মো. মাজহারুল হক চৌধুরী, এসডিএফ’র ময়মনসিংহ জেলার ব্যবস্থাপক কৃষিবিদ কৃষ্ণ চন্দ্র ভৌমিক, সমাজসেবা কার্যালয়ের বিভাগীয় পরিচালক মো. গোলাম মোস্তফা, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. হারুন অর রশিদ, সিভিল সার্জন অফিসের প্রতিনিধি ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের প্রতিনিধি।
বক্তারা বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি অলাভজনক ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এসডিএফ। ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সামাজিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে গ্রামীণ দরিদ্র ও অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছে এটি। ময়মনসিংহে অঞ্চলে সুবিধাভোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২৩ হাজার ২৫০ জন। এখন পর্যন্ত ময়মনসিংহ, শেরপুর, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনার ৭২৫টি গ্রাম সমিতিতে পিআইপি এর আওতাধীন সদস্যদের মধ্যে ‘কমিউনিটি অপারেশন ম্যানুয়াল’র নিয়ম অনুযায়ী মাতৃত্বকালীন ভাতা এবং সিজারিয়ান ভাতা প্রদান করা হয়। এছাড়াও ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স, আয়রন, ফলিক এসিড, খাবার স্যালাইন, ভিটামিন সি, হাত ধোয়ার সাবান এবং মৌসুমি সবজি বীজ বিতরণ করা হয়েছে। পিআইপি এর আওতাধীন সদস্যদের মাঝে বিসিসি সেশন ও হেল্থ ক্যাম্প করা হয়। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী স্টেকহোল্ডাররা নিজ নিজ অবস্থান থেকে স্বাস্থ্য ও পুষ্টি কর্মসূচিকে আরও জোরদার করতে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।
এসডিএফ’র স্বাস্থ্য ও পুষ্টিসহ সার্বিক বিষয়ে তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন ময়মনসিংহ অঞ্চলের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক ডা. আহমেদ তাকি তাহমিদ।
এতে এসডিএফের ময়মনসিংহ আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক (অর্থ) আশিকুর রহমান, বিভিন্ন জেলা ব্যবস্থাপক, জেলা কর্মকর্তা ও ক্লাস্টার কর্মকর্তা ও বিভিন্ন গ্রামের উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।
কামরুজ্জামান মিন্টু/এফএ/এমএস