লক্ষ্মীপুর-২ আসনে দুই ভূঁইয়ার টক্কর, টার্গেট আ’লীগের ভোটার
লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদরের ৯টি ইউনিয়ন) আসনে ভোটের মাঠে মরিয়া হয়ে উঠেছেন বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থী। তাদের কর্মী-সমর্থকরাও প্রতিযোগিতা দিয়ে হাট-বাজার এবং ভোটারদের বাড়ি-বাড়ি যাচ্ছেন। সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারছে না। তারপরও শীর্ষ দুই দলের নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের ভোটারদের কাছে টানছেন। শেষ মুহূর্তে প্রার্থীদের চোখে ঘুম নেই। তারা বিরামহীন প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন।
এ আসনে বিএনপির তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়ার সঙ্গে এবার জামায়াতের প্রার্থী এ এইচ ইউ এম রুহুল আমিন ভূঁইয়া টক্কর দিচ্ছেন। বিএনপির প্রার্থী জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি আর জামায়াতের প্রার্থী জেলা আমির। ফলে এই আসনে ভোটের মাঠে খেলা জমেছে দুই ভূঁইয়ায়।
এ আসনকে বিএনপির ঘাঁটি ও ‘খালেদার ঘর’ বলা হয়। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে প্রয়াত খালেদা জিয়া এখান থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরে দুইবারই উপ-নির্বাচনে তিনি আসনটি ছেড়ে দেন।
জানা গেছে, ১৯৭৩ সালে মোহাম্মদ উল্যা (বিএনপি), ১৯৭৯ সালে মো. ইসমাইল (বিএনপি), ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে চৌধুরী খুরশিদ আলম (বিএনপি), ১৯৯১ সালে মোহাম্মদ উল্যা (বিএনপি), ১৯৯৬ সালে আবুল খায়ের ভূইয়া (বিএনপি), হারুনুর রশিদ (আওয়ামী লীগ) ২০০১ এবং ২০০৮ সালে আবুল খাঁয়ের ভূঁইয়া, ২০১৪ সালে মোাম্মদ নোমান (জাপা) ও ২০১৮ সালে শহিদুল ইসলাম পাপুল (আওয়ামী লীগ) নির্বাচিত হন। তবে মানব ও অর্থ পাচারের অভিযোগে ২০২০ সালের ৬ জুন কুয়েতে শহিদুল ইসলাম পাপুল গ্রেফতার হন। এরপর নির্বাচন কমিশন আসনটি শূন্য ঘোষণা করলে উপ-নির্বাচনে নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন (আওয়ামী লীগ) নির্বাচিত হন। সর্বশেষ ২০২৪ সালেও নুর উদ্দিন চৌধুরী নির্বাচিত হন। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, এ আসনে ৭ জন প্রার্থী রয়েছেন। তারা হলেন- আবুল খায়ের ভূঁইয়া (বিএনপি), এস ইউ এম রুহুল আমিন ভূঁইয়া (জামায়াতে ইসলামী), হেলাল উদ্দিন (ইসলামী আন্দোলন), আবুল বাশার (জিওপি), রেজাউল করিম (নাগরিক ত্রক্য), ইব্রাহিম মিয়া ও ফরহাদ মিয়া (কল্যাণ পার্টি)। ৪ লাখ ৮৬ হাজার ৮৩১ জন ভোটার রয়েছে আসনটিতে।
অন্তত ২০ জন ভোটারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এটিকে মূলত বিএনপির আসন বলা হয়। দীর্ঘদিন ধরে নেতাকর্মীদের মান-অভিমান ও অনৈক্যের কারণে বিএনপির ভীত কিছুটা নড়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়েছে জামায়াত-শিবির। প্রায় প্রতিটি বাড়িতে মহিলা জামায়াতের নেতাকর্মী-সমর্থকরা সাংগঠনিক কাজ করেছে। এতে তাদের ভোট বেড়েছে আগের চেয়ে কয়েকগুণ। ধানের শীষ ও দাঁড়ি পাল্লা প্রতীকের প্রার্থী নারী, তরুণ, চরাঞ্চল ও আওয়ামী লীগের ভোটারের দিকে নজর দিচ্ছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মধ্যম সারির দুইজন আওয়ামী লীগ নেতা জানান, এক মাস ধরে বিএনপি, জামায়াত নেতারা তাদের এলাকায় আসতে বারবার কল দিচ্ছেন। ঢাকায় এক প্রার্থী সিনিয়রদের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন। ভবিষ্যতে হামলা-মামলা ও প্রশাসনের হয়রানি করা হবে না জানিয়ে তাদেরকে ভোটের মাঠে আসার জন্য বলা হচ্ছে। হয়রানি না করার জন্য তারা প্রশাসনকেও বলেছেন।
দেনায়েতপুর এলাকার গৃহিণী নাজমা আক্তার বলেন, পরিবেশ ভালো থাকলে ভোট দিতে কেন্দ্রে যাবো। এখন সকাল-বিকেল প্রার্থী এবং তাদের লোকজনকে দেখা যায়। যেটার প্রয়োজন নেই তারা সেটাও করার প্রতিশ্রুতি দেয়। ভোটের পরে আর কাউকে খুঁজেও পাওয়া যাবে না।
নন্দনপুর গ্রামের রিকশাচালক জুবায়ের হোসেন বলেন, ‘আগে হুইনছি রাতে ভোড হইতো। অন হুনি আগেই ভোডের সিল হাওঅন গেছে। হেতারাও সিল মারি লইবো। আ্যই যাওন লাগদো না। ব্যাকে ডিজিটাল হইছে।’
বিএনপি প্রার্থী আবুল খায়ের ভূঁইয়া বলেন, শুধু আমার আসনে নয়, সারাদেশের মানুষ ১৬-১৭ বছর ভোট দিতে পারেনি। চারদিকে ভোট উৎসব চলছে। জামতায়াত-শিবির বেহেস্তের কথা বলে গ্রামের সহজ-সরল ভোটারদের বিভ্রান্ত করছে। ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটাররা ব্যালটের মাধ্যমে জবাব দিবে।
জামায়াতের প্রার্থী এস ইউ এম রুহুল আমিন ভূঁইয়া বলেন, কেরোয়াসহ বিভিন্ন স্থানে আমাদের নারী কর্মীদের হেনস্তা করা হচ্ছে। বিষয়টি আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছি। ভোটের মাঠে আমাদের জোয়ার উঠেছে।
এছাড়া নির্বাচনে অবৈধ অস্ত্র এবং থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র ব্যবহারের আশঙ্কা প্রকাশ করে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হেলাল উদ্দিন বলেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের জন্য যৌথ অভিযান পরিচালনা করতে প্রশাসনকে বারবার জানিয়েছি। কোনো সংঘাত যে না হয় এজন্য প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে।
এফএ/এমএস