ঈশ্বরদীতে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলেন বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী

উপজেলা প্রতিনিধি
উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি ঈশ্বরদী (পাবনা)
প্রকাশিত: ০৬:৪৫ পিএম, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকারিয়া পিন্টুর মোটরসাইকেল প্রতীকে নির্বাচন করায় বারবার বহিষ্কারের হুমকি দেওয়ার প্রতিবাদে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন শতাধিক নেতাকর্মী। পরে পদত্যাগকারী সব নেতা ও উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঈশ্বরদী পৌরশহরের কাচারীপাড়া মাঠে জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বিএনপির সহযোগী সংগঠনের নেতারা পদত্যাগ করেন।

স্বেচ্ছায় পদত্যাগকারীদের মধ্যে উপজেলা ও পৌর যুবদল, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দল, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দল, ইউনিয়ন ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দল ও উপজেলা ছাত্রদলসহ ৬৪ জন পদধারী নেতাসহ কয়েকশত কর্মী সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সাহাপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকদলের সভাপতি ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. রাসেল পারভেজ বলেন, পতিত সরকারের আমলে পাবনা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক ও পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুর নেতৃত্বে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। হামলা মামলায় শিকার হয়েছি। জেল খেটেছি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে দলীয় প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা ২০২৩ সালে দিয়েছিলেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেই হিসেবে জাকারিয়া পিন্টু দলীয় ধানের শীষের মনোনয়ন পাবেন বলে আশা করেছিলাম।

রাসেল বলেন, এ কারণে নেতাকর্মী শূন্য হয়ে দলীয় ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব বারবার আমাদের দল থেকে বহিষ্কারের হুংকার দিচ্ছেন। এমনকি কেন্দ্র থেকেও আবার ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে দলীয় প্রতীকের পক্ষে নির্বাচনে অংশ না নিলে বহিষ্কারের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। এ কারণে আমরা দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর অভিমান করে একযোগে স্বেচ্ছায় দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করলাম।

তাদের মধ্যে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর হোসেন, রওশন আলম পাপ্পু, পৌর স্বেচ্ছাসেবকদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক ফয়সাল আহমেদ ফারুক, রুমন আলী, এনায়েত আলী, আমিনুল ইসলাম জনি, দাশুড়িয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সোহেল খান, সলিমপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকদলের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হোসেন পলাশ, মুলাডুলি ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেককদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আশিকুল ইসলাম আশিক, জসিম হোসেন, উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি মাহমুদুল ইসলাম শাওন, ওমর শেখ শান্ত ও সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সদস্যসচিব মোহাম্মাদ আরাফাত ইসলাম উল্লেখযোগ্য।

এ ব্যাপারে জানতে পাবনা-৪ আসনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তিনি গণসংযোগে ব্যস্ত থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক মেয়র মখলেছুর রহমান বাবলু বলেন, রাজনীতিতে মান অভিমানের কোনো মূল্য নেই। দলকে ভালোবাসলে ভোটের আগে দল থেকে পদত্যাগ করাটা ভাল না। দলকে ভালবাসলে অবশ্যয় দলীয় সিদ্ধান্ত মানতে হবে। দলের সিদ্ধান্ত না মেনে যদি কেউ পদত্যাগ করাটা নিতান্তই তাদের ব্যক্তিগত বিষয়।

শেখ মহসীন/আরএইচ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।