লক্ষ্মীপুর-৩

তৃতীয়বারের মতো এমপি হতে আশাবাদী এ্যানি, মরিয়া রেজাউল

কাজল কায়েস কাজল কায়েস , জেলা প্রতিনিধি, লক্ষ্মীপুর লক্ষ্মীপুর
প্রকাশিত: ১২:৪৮ পিএম, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
শহীদ উদ্দিন চৌধুরী ত্র্যানি-রেজাউল করিম

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের ফসল ঘরে তুলতে তুমুল ব্যস্ত লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনে বিএনপি প্রার্থী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী ত্র্যানি ও জামায়াত প্রার্থী রেজাউল করিম। প্রচারণায় সন্ত্রাস ও মাদক সমস্যা সমাধানে প্রতিশ্রুতিমুখর তারা।

শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও জেলা কমিটির আহ্বায়ক। রেজাউল করিম জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর (উত্তর) সেক্রেটারি। ১৯৯৬ থেকে ৯৮ সাল পর্যন্ত এ্যানি ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। রেজাউল ২০০৯ ও ১০ সালে শিবিরের সভাপতি ছিলেন। তারা জাতীয় পর্যায়ে রাজনীতির পরিচিত মুখ।

এদিকে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ ছাড়া এ নির্বাচনে প্রচারণার শেষ সময়ে শীর্ষ দুই দলের প্রার্থীরা গ্রামে-গ্রামে যাচ্ছেন। তারা ভোটারদের নানামুখী সমস্যার কথা শুনছেন। প্রার্থীদের স্ত্রী-সন্তানরাও ভোটারদের সঙ্গে কথা বলছেন, ভোট প্রার্থনা করছেন।

অন্যদিকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুতের পর আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাকর্মী এলাকাছাড়া হয়েছে। কর্মী-সমর্থকরা যারা এলাকায় আছেন, তারাও নিষ্ক্রিয় রয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগের ভোটারদের কদর বেড়েছে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের কাছে।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, এ আসনে ৬ জন প্রার্থী রয়েছেন। তারা হলেন শহীদ উদ্দিন চৌধুরী ত্র্যানি (বিএনপি), রেজাউল করিম (জামায়াত), মো. ইব্রাহিম (ইসলামী আন্দোলন), এ কে এম মহি উদ্দিন (জাপা), মো. শামছুদ্দিন (এলডিপি) ও সেলিম মাহমুদ (এনপিপি)। এখানে ৪ লাখ ৪৪ হাজার ৪৭২ জন ভোটার রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৭৩ সালে বিনাভোটে শেখ মুজিবুর রহমানের সংসদের সদস্য হন শাহজাহান কামাল (আওয়ামী লীগ), ৭৯ সালে মাস্টার সফিক উল্যা (জামায়াত), ৮৬ সালে মোহম্মদ উল্যা (জাপা), ৮৮ সালে আবদুস সাত্তার মাস্টার (জাসদ), ৯১ সালে খায়রুল এনাম (বিএনপি), ৯৬ সালে নুরুল আমিন ভূঁইয়া (বিএনপি) ও খায়রুল এনাম (বিএনপি), ২০০১ ও ২০০৮ সালে শহিদ উদ্দিন চৌধুরী ত্র্যানি (বিএনপি), ২০১৪ ও ১৮ সালে এ কে এম শাহজাহান কামাল (আওয়ামী লীগ)।

তৃতীয়বারের মতো এমপি হতে আশাবাদী এ্যানি, মরিয়া রেজাউল

এরমধ্যে ২৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর শাহজাহান কামালের মৃত্যু হয়। এরপর নির্বাচন কমিশন আসনটি শূণ্য ঘোষণা হলে উপ-নির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালের নির্বাচনেও পিংকু নির্বাচিত হন।

চন্দ্রগঞ্জ এলাকার কলেজছাত্রী পিয়াংকা খানম বলেন, যেই ক্ষমতায় আসে আমাদের সমস্যা নেই। কিন্তু আমরা চাই সন্ত্রাস স্থায়ীভাবে রোধ হোক। আমরা শান্তি চাই, খুনখারাপি না।

অটোরিকশা চালক গোফরান মিয়া বলেন, দুইবেলা খেয়ে আমরা বেঁচে থাকতে চাই। দেশ ভালো থাকলে, আমরাও ভালো থাকবো। তবে সরকার আওয়ামী লীগসহ সব দলকে নিয়ে ভোট করলে ভালো হতো।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ আসনে ৭ জন প্রার্থী থাকলেও মূলত ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থী। সমানতালে তারা গণসংযোগ, পথসভা করছেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তারা প্রচারণা চালাচ্ছেন।

বিএনপি নেতা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, আমরা শুরু থেকে প্রত্যেকটি গ্রামে যাচ্ছি। ভোটারদের কাছে গিয়ে তাদের সমস্যার কথা শুনছি। এ অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষই কৃষক। তাদের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য আমার পরিকল্পনা রয়েছে। আমি এমপি থাকাকালে ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। ভোটাররা আমাকে আবারও বিজয়ী করবেন।

জামায়াত নেতা রেজাউল করিম বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য প্রশাসনকে জানিয়েছি। অবৈধ অস্ত্র ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করতে আহ্বান জানাচ্ছি। নির্বাচনকে বাঁধাগ্রস্থ করতে বিএনপির নেতাকর্মীরা অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমাদের নারীদের বাঁধা ও মারধর করছে। নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আমরা শতভাগ আশাবাদী।

কাজল কায়েস/এনএইচআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।