শেরপুর-১ আসনে লড়াই হবে ত্রিমুখী
শেরপুর-১ (সদর) আসনে বিএনপি, জামায়াত ও বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থীর মাঝে ত্রিমুখী লড়াই হবে বলে বলছে ভোটাররা। আসনটি পুনরুদ্ধার করতে চায় বিএনপি। অন্যদিকে বিজয়ী হয়ে ইতিহাস গড়তে চায় জামায়াত। তবে বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে কিছুটা অস্বস্তিতে রয়েছে বিএনপি।
আসনটিতে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদ সদ্য ত্রিশের কোটায় পা রাখা ডাক্তার সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা। তিনি জেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক আলহাজ্ব হযরত আলীর মেয়ে ও দলটির সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থী। ২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রিয়াঙ্কাকে প্রার্থী করেছিল বিএনপি। সেই নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগ দুর্গের ভিত কাঁপিয়ে দেন। সেসময় আওয়ামী লীগের হামলা-ভাঙচুর উপেক্ষা করে তীব্র প্রতিরোধ ও প্রতিবাদ করে সারাদেশে আলোচিত হয়েছিলেন তিনি। সেই নির্বাচনে দুপুর ১২টার মধ্যে ৩৫ হাজার ভোট পেলেও কারচুপির অভিযোগ এনে অবশেষে ভোট থেকে সরে দাঁড়ান ডা. প্রিয়াঙ্কা। এবারও দলীয় নেতাকর্মীরা একাট্টা তার পক্ষে।
অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি হাফেজ রাশেদুল ইসলাম। ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে তিনি মাঠ চষে বেড়িয়েছেন। জোটের শরিক দলের নেতাকর্মীও দাঁড়িপাল্লার পক্ষে একাট্টা হয়ে মাঠে নেমেছেন। তিনি এবারই প্রথম নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মাসুদ বিএনপির বিদ্রোহী। দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নির্বাচন করায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে ছাত্ররাজনীতি ও দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকায় তারা নিজস্ব ভোট-ব্যাংক রয়েছে। এছাড়াও তিনি উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থীর ভীত নাড়িয়ে দিয়েছিলেন।
আসনটিতে মোট প্রার্থী ছিলেন ছয়জন। এর মধ্যে স্থানীয় রাজনীতির চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. ইলিয়াস উদ্দিন নিজে নির্বাচন থেকে সরে গিয়ে প্রকাশ্যে অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মাসুদের পক্ষে কাজ করছেন। অন্যদিকে এনসিপির জেলা আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার লিখন মিয়া জামায়াতের প্রার্থী হাফেজ রাশেদুলের পক্ষে কাজ করছেন। এছাড়া জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক মাহমুদুল হক মনি লাঙল প্রতীক নিয়ে কারাগার থেকে নির্বাচন করছেন। তবে মাঠ পর্যায়ে তার তেমন প্রভাব বা আলোচনা নেই।

বিএনপির প্রার্থী ডাক্তার সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা বলেন, ‘আমি মূলত দলের নির্দেশেই রাজনীতিতে এসেছি। এর আগেও ২০১৮ সালে আমি নির্বাচনে লড়েছি। ময়মনসিংহ বিভাগে একমাত্র নারী প্রার্থী আমি। আর নারী প্রার্থী হওয়ায় আমার মা-চাচি, খালাদের ব্যপক সাড়া পাচ্ছি। একজন চিকিৎসক হিসেবে শেরপুরের স্বাস্থ্যখাতে আমূল পরিবর্তন করবো, ইনশাআল্লাহ। এরপর বেকারত্ব দূরীকরণ, যাতায়াত সমস্যাসহ এখানকার সংকট, সমস্যা আর সম্ভবনা সবকিছুই আমার জানা। সব সেক্টরেই উন্নয়ন করা হবে। এবার মানুষ ধানের শীষের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।’
জামায়াতের প্রার্থী হাফেজ রাশেদুল ইসলাম বলেন বলেন, ‘এ আসন শহীদ কামারুজ্জামানের চাষ করা ভূমি। এখানকার নাগরিকরা চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস ও দাঙ্গা-হাঙ্গামাকারীদের লালকার্ড দেখিয়েছে। তারা ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এখানকার কোথায় কী সমস্যা-সম্ভবনা সব আমাদের জানা। আমরা যেখানেই যাচ্ছি, ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। দাঁড়িপাল্লার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। জনগণ এবার ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় পরিবর্তনের পক্ষে রায় দেবে, ইনশাআল্লাহ।’
স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ‘রাজনীতির কারণে দীর্ঘদিন জেল জুলুম আর নির্যাতনের শিকার হয়েছি। বারবার কারাগারে যেতে হয়েছে। তবে কর্মী-সমর্থক এবং এলাকার সাধারণ মানুষের আগ্রহ ও অনুরোধের প্রতি সম্মান জানিয়েই নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। আমি জনগণের প্রার্থী। আমি গত সময়ে উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলাম, জনগণ আমার প্রতি আস্থা রেখে ভোট দিয়েছিলো। কিন্তু আওয়ামী লীগ তখন আমার বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছিল। দীর্ঘদিন জেলা ছাত্রদলের নেতৃত্ব দিয়েছি, জেলা যুবদলের নেতৃত্ব দিয়েছি তাই এ অঞ্চলের সবার সাথে আমি পরিচিত। জনগণের প্রার্থী হিসেবে জণগণই আমাকে এবার বিপুল ভোটে বিজয়ী করবে।’
জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘শেরপুর সদর উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে শেরপুর-১ (সদর) আসন। এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৫০ হাজার ৪৮৮ জন। পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২৪হাজার ৪৭২ জান আর নারী ভোটার ২লাখ২৬ হাজার ৮ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে আটজন।’
মো. নাঈম ইসলাম/এমএন/এমএন