নোয়াখালীর সেই ‘ধর্ষণকাণ্ডের’ ঘটনায় ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নোয়াখালী
প্রকাশিত: ১০:০৯ পিএম, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে মামলাটি করেন। ছবি-সংগৃহীত

নোয়াখালীর হাতিয়ায় ‘ধর্ষণকাণ্ডের’ ঘটনার পাঁচদিন পর ছয়জনকে আসামি করে জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়েছে।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ভুক্তভোগী নারী (৪০) বাদী হয়ে মামলাটি করেন। বিচারক এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হাতিয়া থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।

বাদীর আইনজীবী মো. নোমান সিদ্দিক রাতে জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, অভিযোগ দেওয়ার পর বিকেলে হাতিয়া থানার ওসিকে মামলা রুজু করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আদেশ দিয়েছেন বিচারক। একইসঙ্গে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে আদালত।

মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন হাতিয়ার চানন্দী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ধানসিঁড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্পের আবুল কাশেমের ছেলে আবদুর রহমান (৩২), আবদুল গফুরের ছেলে মো. মতিন (৩৫), হালিম ডুবাইর ছেলে হেলাল উদ্দিন কেরানী (৪০), আবুল কাশেমের ছেলে মো. রুবেল (৩০), ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মোস্তফা সর্দারের ছেলে এমরান হোসেন কালা এমরান (৩৫) এবং ২ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর আজিমপুর গ্রামের মো. মোস্তফার ছেলে বেলাল মাঝি (৪৮)।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ায় ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টার পরে আসামিরা অজ্ঞাতপরিচয় সন্ত্রাসীদের নিয়ে ধানসিঁড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্পে হামলা চালায়। এসময় বাদীর বসতঘরে ঢুকে স্বামীসহ তাকে পিটিয়ে জখম করা হয়। পরে স্বামীকে একটি কক্ষ আটক রেখে গোসলখানায় নিয়ে ১ নম্বর আসামি আবদুর রহমান তাকে ধর্ষণ করেন। পরে আবারও স্বামী-স্ত্রীকে পিটিয়ে ঘটনাটি কাউকে না জানানোর হুঁশিয়ারি দিয়ে চলে যান।

পরদিন ভোর ৫টার দিকে আবারও একই সন্ত্রাসীরা ওই এলাকায় হামলা চালায়। এসময় বাদী ও তার স্বামীকে আবারও মারধর করা হয়। এসময় বাদীর শ্লীলতাহানি করা হয় এবং শাপলা কলির আরেক কর্মীর (নারী) ঘর দেখিয়ে দিতে বলেন তারা। পরে সন্ত্রাসীরা ওই ঘরেও ব্যাপক তাণ্ডব চালায়।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ভুক্তভোগীকে ২৫০ শয্যার নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি পুলিশ পাহারায় এখনো সেখানে চিকিৎসাধীন।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ভুক্তভোগীর চিকিৎসায় তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এছাড়া পুলিশের চাহিদাপত্রের আলোকে রোগীর শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা হলেন গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. শিরিন সুলতানা, ডা. ফাতেমা জোয়ান মুনিয়া ও ডা. তাহমিনা আক্তার। ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া সাপেক্ষে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এ কমিটি পরীক্ষার প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে তদন্ত ছাড়া পুলিশের পক্ষ থেকে ‘ধর্ষণ হয়নি’ বলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার। ভুক্তভোগীর স্বামী জাগো নিউজকে বলেন, ‘ঘটনাস্থলে আমি ছিলাম। আমার স্ত্রী আমাকে সঙ্গে সঙ্গে বলেছে, রহমান ধর্ষণ করেছে। সেখানে তদন্ত ছাড়া পুলিশ কীভাবে বলে ধর্ষণ হয়নি?’

তিনি আরও দাবি করেন, নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল থেকে আমার বাড়িতে পৌঁছাতে ৩৫ মিনিট সময় লাগে। ওই রাতে রহমান ওই হাসপাতালে চিকিৎসা নিলেও রাত ১০টা ৪০ মিনিটে বের হয়ে সোয়া ১১টার পর ওই ঘটনা ঘটায়। আমাদের হাতে ঘড়ি না থাকায় সময় কিছুটা এদিক-সেদিক হতে পারে।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম জাগো নিউজকে বলেন, বুধবার বিকেলে ধর্ষণ মামলা রুজু করে ব্যবস্থা নিতে আদেশ দিয়েছেন বিচারক। আমরা এখনো মামলার কপি হাতে পাইনি। বৃহস্পতিবার কপি হাতে পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ভুক্তভোগীকে সার্বক্ষণিক পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে।

ইকবাল হোসেন মজনু/এসআর

 

 

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।