রমজানে সবজি-মুরগির দামে নাভিশ্বাস ক্রেতাদের

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ময়মনসিংহ
প্রকাশিত: ০১:১৯ পিএম, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ময়মনসিংহের বাজারে বেশিরভাগ সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একইসঙ্গে বেড়েছে মুরগির দাম। এতে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ক্রেতারা।

ক্রেতারা বলছেন, বাজার মনিটরিং দুর্বল থাকায় অসাধু বিক্রেতারা রমজানকে টার্গেট করে ইচ্ছামতো দামে বিক্রি করে তাদের পকেট ভারি করছেন।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে শহরের ঐতিহ্যবাহী মেছুয়া বাজারে গিয়ে সবজি ও মুরগির দাম বাড়ার এই তথ্য জানা গেছে।

ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কেজিতে বেগুনের দাম বেড়েছে ৪০ টাকা। গত সপ্তাহ বেগুন ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও এখন ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শসার দাম ৫০ টাকা থেকে বেশ ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে বেড়েছে কাঁচামরিচের দাম। কাঁচামরিচের দাম কেজিতে গত সপ্তাহ ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও এখন ১৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। লেবুও দামও হালিতে বেড়েছে ৩০ টাকা। বর্তমানে ভালো জাতের লেবু ৮০ টাকা হালিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া শিম ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৪০, টমেটো ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৪০, গাজর ৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৫০ ও ক্যাপসিকাম ৩৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৪০০, চালকুমড়া ৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ টাকা পিস হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। বরবটি ৬০ টাকা কেজি, কাঁচা পেঁপে ৩০ টাকা কেজি, ফুলকপি ৪০ টাকা পিস, কাঁচকলা ৩০ টাকা হালি ও ধনেপাতা ২০ টাকা আটিঁতে বিক্রি হচ্ছে। সজনের দাম কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে ২৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

সবজি ছাড়াও ব্রয়লার, সাদা কক ও সোনালী কক মুরগির দাম কেজিতে বেড়েছে ১০ টাকা। বর্তমানে ব্রয়লার ১৮০, সাদা কক ২৮০ ও সোনালী কক ৩০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। হাঁসের ডিম ৬০ টাকা হালি ও ফার্মের মুরগির ডিম ৩৫ টাকা হালিতে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া বাজারে সিলভার কার্প ২১০-২৮০ টাকা, শোল ৬০০-৫৪০, তেলাপিয়া ২০০-২৮০, মৃগেল ২৮০-৩৫০, পাঙাশ ১৭০-২০০, পাবদা ৪৩০-৫৫০, ট্যাংরা ৫১০-৭৮০, রুই ৩২০-৪২০, কালবাউশ ৩০০-৩৭০, কাতলা ৩৪০-৪৪০, শিং ৩৫০-৬৫০, টাকি ৪১০-৫৪০ ও কৈ ২৫০-৩৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

সবজি কেনার সময় কথা হয় আজিজ মিয়া নামের একজন ক্রেতার সঙ্গে। তিনি বলেন, বাজারে সবজির প্রচুর সরবরাহ রয়েছে। অথচ পবিত্র রমজান মাসকে টার্গেট করে বিক্রেতারা ইচ্ছামতো দামে বিক্রি করছেন। এতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ক্রেতারা সবচেয়ে বিপাকে পড়ছেন।

ব্রয়লার মুরগি কিনছিলেন জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, তিন কেজি মুরগি কিনেছি। এতে বিক্রেতা আগের সপ্তাহের চেয়ে মোট ৩০ টাকা বাড়তি নিয়েছে। বিক্রেতা আমাকে জানিয়েছে, পাইকারিভাবে মুরগির দাম কিছুটা বেড়ে গেছে।

দাম বাড়িয়ে বিক্রি করার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে সবজি বিক্রেতা আব্দুল মান্নান বলেন, বাজারে চাহিদার তুলনায় সবজির সরবরাহ যে তুলনায় কম। এছাড়া দাম বাড়লেও বিক্রি কমেনি।

মুরগি বিক্রেতা নজরুল ইসলাম বলেন, পাইকারিভাবে মুরগির দাম কিছুটা বেড়েছে। ফলে ক্রেতাদের কাছে আমরাও দাম বাড়িয়ে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি। পাইকারিভাবে দাম কমলে আমরাও কমিয়ে বিক্রি করব। বাজারে সিন্ডিকেট করে মুরগি বিক্রি হচ্ছে না।

জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে জানা গেছে, আজ বিকেলে মেছুয়া বাজার মনিটরিং করবেন জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান ও পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান। এছাড়া জেলার অন্যান্য বাজারগুলোও নজরদারিতে রাখবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাররা। তারা যেকোনো সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অসাধু ব্যবসায়ীদের জরিমানার আওতায় আনবেন।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ময়মনসিংহের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুস ছালাম বলেন, রমজান মাস উপলক্ষে অনেক অসাধু বিক্রেতা ইচ্ছামতো দামে বিক্রি করতে চেষ্টা করেন। এজন্য বাজারগুলোতে অভিযান চালানো হবে। যৌক্তিক কারণ ছাড়া কোনো বিক্রেতা দাম বাড়িয়ে তাদের পকেট ভারি করতে চেষ্টা করলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কামরুজ্জামান মিন্টু/এনএইচআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।