ডুবন্ত সড়ক সংস্কার
মেয়াদ বাড়লেও কাজের ধীরগতি, স্থানীয়দের দুর্ভোগ
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে একটি ডুবন্ত সড়ক সংস্কার ও প্রশস্তকরণ প্রকল্পের মেয়াদ আরও একবার বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে। দ্বিতীয় বারের মতো বাড়ানো আবেদনের মেয়াদে কাজ শেষের সময় ধরা হয়েছে আগামী জুন পর্যন্ত। তবে এ সময়ের মধ্যে কাজের অগ্রগতি মাত্র ৩০ শতাংশ।
খানাখন্দ ও গর্তে ভরা সড়কটিতে দুর্ঘটনা যেন নিত্যসঙ্গী। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতিতে কাজের ধরিগতি, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার, কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় সময়মতো কাজ শেষ হচ্ছে না।
উপজেলায় ডিঙাপোতা হাওরে তেঁতুলিয়া থেকে গাগলাজুর বাজার পর্যন্ত সাড়ে সাত কিলোমিটার ডুবন্ত সড়কের চিত্র এটি।
স্থানীয় ও এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার তেঁতুলিয়া থেকে গাগলাজুর বাজার পর্যন্ত প্রায় সাড়ে সাত কিলোমিটার ডুবন্ত সড়ক সংস্কার ও প্রশস্তকরণের উদ্যোগ নেয় সরকার। ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়। নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ২৭ কোটি ৭৪ লাখ ৩ হাজার ১০০ টাকা।
‘এমএস হাসান বিল্ডার্স’ নামের কুমিল্লার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ৩ জুলাই কাজ শুরু করে ২০২৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করার কথা ছিল। কাজটি বাস্তবায়ন করছে নেত্রকোনার শ্যামগঞ্জের মফিদুল ইসলাম ওরফে অসীম নামের একজন ঠিকাদার। প্রকল্পের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করার মানুষের মধ্যে স্বস্তি এসেছিল। তবে ঠিকাদারের ধীরগতির কারণে নিদৃষ্ট সময়ের মধ্যে কাজের অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ১৮ শতাংশ হয়।
এ অবস্থায় চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয় সময়। কিন্তু ওই সময়ের মধ্যে কাজের অগ্রগতি হয়েছে সামান্য। কাজ শেষ করতে আবারও আগামী ৯ জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বর্ষায় সড়কটি পানির নিচে ডুবে থাকলেও শুকনা মৌসুমে ডিঙাপোতা হাওরের ধান পরিবহনে কৃষকদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সড়কপথে গাগলাজুর বাজার থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় মাছ ও মালামাল পরিবহন, পাশের উপজেলা খালিয়াজুরির কয়েকটি ইউনিয়নসহ সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ, দিরাই ও শাল্লা উপজেলার বেশ কিছু এলাকার মানুষ নৌপথে গাগলাজুর বাজারে এসে সেখান থেকে সড়ক পথে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেন।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ওই সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, সড়কটির কাজ বন্ধ রয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় একপাশে খালের মতো করে কেটে রাখা হয়েছে। প্রশস্ত করার জন্য সেখানে নদী থেকে কাদাবালি ফেলে রাখা হয়েছে। পাশে ইট দিয়ে গাইড ওয়াল তোলা। খানাখন্দ ভরা সড়কে ঝাঁকি খেয়ে হেলেদুলে চলতে হচ্ছে ইজিবাইক, রিকশাসহ ছোট যানবাহনকে। কোনো যানবাহন গেলেই ধুলা উড়ছে।
তেঁতুলিয়া গ্রামের খোকন মিয়া বলেন, ‘সরকার সড়কটি দীর্ঘস্থায়িত্বের জন্য বিশাল ব্যয়ে আরসিসি ঢালাই বরাদ্দ দিয়েছে। কিন্তু ঠিকাদার ময়লামিশ্রিত মানহীন বালু, নিম্নমানের ইট-সিমেন্ট ও অপর্যাপ্ত সিমেন্টের মিশ্রণ ব্যবহার করছেন। ইট গাঁথুনির পর এতে পানি ঢালা হচ্ছে না। এতে সড়কটি স্থায়ী হবে না, ভেঙে যাবে।’
একই এলাকার আবদুল হাসেম বলেন, ‘প্রায় দুই বছরে মাত্র ২৮ শতাংশ কাজ হয়েছে। এছাড়া নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে যেনতেনভাবে কাজ করছে ঠিকাদারের লোকজন। নামমাত্র পানি দিয়ে বালু-সিমেন্ট মিশিয়ে ইট গাঁথুনি দেওয়া হচ্ছে। এতে বছর শেষ হওয়ার আগেই সড়ক ভেঙে যাবে। এ বিষয়ে আমরা বাধা দিলেও মানা হচ্ছে না। কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদার মফিদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘কোনো নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার হচ্ছে না। এটা স্থানীয়রা অহেতুক অপবাদ দিচ্ছেন।’
তিনি বলেন, ‘শুরুতে ইট সরবরাহকারী ভালো ইটের সঙ্গে কিছু নিম্নমানের ইট মিশিয়ে দিয়ে দিয়েছিল। পরে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী এক লাখ ইট রিজেক্ট করেছেন। কিছু গাইড ওয়াল ভেঙে ভালো ইট ব্যবহার করা হয়েছে। অন্যান্য উপাদানও সঠিক পরিমাণে দেওয়া হচ্ছে।
কাজ কিছু দিন ধরে বন্ধ আছে। এক সপ্তাহের মধ্যেই শুরু হবে জানিয়ে ঠিকাদার বলেন, মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে এলজিইডি নেত্রকোনা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ‘কাজ নিয়ে কিছু অভিযোগ ছিল। এখন যথাযথভাবে কাজ হচ্ছে। শুকনা মৌসুমে কাজটি শেষ করতে ঠিকাদারকে তাগাদা দেওয়া হচ্ছে।’
এইচ এম কামাল/এসআর/জেআইএম