জমে উঠছে খুলনার ইফতার বাজার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি খুলনা
প্রকাশিত: ০৩:১৭ পিএম, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

জমে উঠেছে খুলনার ইফতার বাজার। ইফতার সামগ্রী নিয়ে রাস্তার সামনে, ছোট বড় হোটেলের সামনে ইফতারের পসরা নিয়ে বসছেন ছোট বড় ব্যবসায়ীরা। বিকেল থেকে এসব ইফতার সামগ্রীর দোকানে দেখা যায় ভিড়। নগরীর পাইওনিয়র কলেজ মোড়, সাতরাস্তা মোড় ও ময়লাপোতা ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

ইফতার সামগ্রীর দোকানগুলোতে কথা বলে জানা যায়, ছোট-বড় বেগুনি ৫-১০ টাকা, পেঁয়াজু ৫-১০ টাকা, আলুর চপ ৫ টাকা, চিকেন চপ ২০ টাকা, চিকেন ফ্রাই ৫০-৬০ টাকা পিস, সবজি চপ ১০ টাকা থেকে শুরু করে ২০ টাকা পর্যন্ত, ডিমের চপ ২০ টাকা এবং জিলাপি রকম ভেদে ১৮০ থেকে শুরু করে ২৫০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে হালিম বিভিন্ন জায়গায় একেক রকম দামে বিক্রি হচ্ছে। ২০০ টাকা থেকে শুরু করে ১৪০০ টাকা পর্যন্ত প্রতি বাটি বিক্রি হচ্ছে। পরিমাণ অনুসারে দাম কমবেশি থাকছে।

পাইওনিয়র কলেজ মোড়ে বসেছে বিশাল ইফতার বাজার। এখানে সব ধরনের ইফতার সামগ্রী পাওয়া যায়। বিকেল ৪টা থেকে ক্রেতাদের ভিড় দেখা যায়। এখানে বেগুনি, পেঁয়াজু, আলুর চপ, সবজি চপ, বিরিয়ানি, জিলাপিসহ ইফতারের অনেক জিনিস বিক্রি হচ্ছে।

ইফতার বিক্রেতা নূরে আলম বলেন, বেগুনি, আলুর চপ ও পেঁয়াজু বেশি বিক্রি হয়। জিলাপিও বিক্রি হয়। কিন্তু সবজি চপ ও ডিমের চপ তুলনামূলক কম বিক্রি হয়। ইফতার পার্টি হলে আমরা অর্ডার পাই। তখন এ ধরনের খাবারের চাহিদা বেশি থাকে।

হালিম বিক্রেতা সরফরাজ বলেন, রমজান মাসে শাহী হালিমের চাহিদা বেশি থাকে। এজন্য রমজান মাসে শাহী হালিম বিক্রি করি। শাহী হালিমে মসলা ও মাংস বেশী থাকে। প্রতিদিন ৩-৪ জন খেতে পারেন এমন বাটি বিক্রি হয় ৫০-৬০টি। আর ইফতারের পর খুচরা বিক্রিও চলে রাত ৮-৯টা পর্যন্ত।

ফেরিঘাট মোড়ের জিলাপি বিক্রেতা হালিম মিয়া বলেন, আমাদের এই জায়গাটা জিলাপি বিক্রির জন্য প্রসিদ্ধ জায়গা। দুপুর ১২টার পর থেকে আমরা জিলাপি তৈরির মালামাল প্রস্তুত করতে থাকি। তিনটার পর থেকে জিলাপি তৈরি করি। বিকেল থেকে একটা চাপ পড়ে আমাদের দোকানগুলোতে। প্রতিদিন আনুমানিক ৭০০-৮০০ কেজি জিলাপি বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতা শফিকুল ইসলাম বলেন, আমার পরিবারে চারজন সদস্য। বাসায় ইফতার তৈরিতে অনেক কষ্ট হয়। এজন্য দোকান থেকেই প্রতিদিন ইফতার কিনি। ঝামেলা কম হয়। আর অনেক ধরনের ইফতার বিক্রি হচ্ছে এসব জায়গায়। বেগুনি-আলুর চপ থেকে শুরু করে ছোলা-বুট পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে দোকানগুলোতে।

অপর ক্রেতা ফজলুর রহমান বলেন, বাইরে থেকে বলতে শুধু হালিম, জিলাপি ও বুন্দিয়া কিনি। বাকিসব ঘরেই তৈরি করা হয়। কারণ বাইরের সব খাবার স্বাস্থ্যসম্মত না। বাইরের ধুলো বালি এসব খাবারে পড়ে। এজন্য বেশিরভাগ খাবার বাসায় প্রস্তুত করা হয়।

আরিফুর রহমান/এফএ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।