দখল-দূষণে মৃতপ্রায় বাংলাবাজার খাল

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি বরিশাল
প্রকাশিত: ০৩:৪৮ পিএম, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

দখল-দূষণ ও পলিমাটি পড়ে মরা খালে পরিণত হয়েছে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার বাংলাবাজার খাল। পানির অভাবে পাদ্রীশিবপুর, রঙ্গশ্রী, নিয়ামতি ইউনিয়নের হাজার হাজার একর জমিতে এখন বোরো মৌসুমে ধান চাষে ব্যাহত হচ্ছে।

খালটি শ্রীমন্ত নদীর পাদ্রীশিবপুর নিউমার্কেট হতে শুরু হয়ে নিয়ামতি ইউনিয়নের বিষখালি নদীর সঙ্গে সংযোগ হয়েছে। প্রায় ২০ কিলোমিটার খালটি স্বাধীনতার পরবর্তী সময় খনন করা হলেও যুগের পর যুগ খালটি পুনঃ খনন করা হয়নি। এতে খালটির পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে মরা খালে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে খালটিতে পানি না থাকায় দুশ্চিন্তায় আছেন তিন ইউনিয়নের কয়েক হাজারো কৃষক।

সরেজমিনে দেখা যায়, খালটির ভবানিপুর বাজার হতে মধ্য মহেশপুর পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার অংশ জুড়ে আগাছা, পলি মাটি জমে ভরাট হয়ে গেছে। এছাড়াও খালের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে বাকেরগঞ্জ বরগুনা আঞ্চলিক সড়ক। সড়কের পাশে বিভিন্ন স্থানে খালের ওপর হাটবাজার দোকান বসতবাড়ি ও ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। যে কারণে শুকনো মৌসুমে খালটির অধিকাংশ স্থানে পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়।

খালটিতে পানি না থাকায় বর্তমানে বোরো মৌসুমে কৃষকদের কৃষি উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়াও নিয়ামতি ইউনিয়নের মহেশপুর, ঢাল মারা গ্রামে প্রায় ৩০০ পরিবার রয়েছে মৃৎশিল্পের সাথে জড়িত। মাটির তৈরি বিভিন্ন রকম পণ্য নৌপথে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাইকারদের মাধ্যমে নেওয়া হয় নিয়ামতি এ খাল দিয়ে। শুকনো মৌসুমে খালে পানি না থাকায় খালটিতে এখন নৌ যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। যে কারণে মৃৎশিল্পের সঙ্গে জড়িত পরিবারগুলো তাদের উৎপাদিত মাটির পণ্য বাজারজাতকরণে দুর্ভোগে পড়েছে।

রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের কৃষক আলমগীর খন্দকার বলেন, এখন বোরো ধানের মৌসুম থাকলেও খালে পানি না থাকায় এ এলাকার কৃষকরা বোরো ধান আবাদ করতে পারছে না। এছাড়াও প্রায় দশ বছর ধরে এ এলাকার কৃষকরা রবি শস্য ফলাতে পারছে না খালে পানি না থাকায়। দ্রুত সময়ের মধ্যে খালটি খননের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নিয়ামতি ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ূন কবির বলেন, প্রায় তিন যুগেও খালটি খনন করা হয়নি। নিয়ামতি বাংলাবাজার খালটিতে বিষখালি নদী ও শ্রীমন্ত নদী হতে পানি আসতো। দীর্ঘ সময়ে খালটি পুনঃ খনন না করার কারণে ধীরে ধীরে এ খালটিতে পলিমাটি জমে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে খালটির অনেক জায়গায় মাটি জমে উঁচু হয়ে গেছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, বিষয়টি ভুক্তভোগী কৃষকদের মাধ্যমে অবগত হয়েছি। খাল খননের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যাতে অচিরে কৃষকেরা খালের পানি ব্যবহার করে নির্বিঘ্নে চাষাবাদ করতে পারে।

শাওন খান/আরএইচ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।