ইফতার আয়োজন বন্ধে পুলিশ পাঠানোর অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

উপজেলা প্রতিনিধি
উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)
প্রকাশিত: ০৮:৫৮ পিএম, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে একটি সামাজিক সংগঠনের আয়োজিত ইফতার মাহফিল ঘিরে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ইফতার অনুষ্ঠান বন্ধ করার জন্য থানায় অভিযোগ দিয়ে পুলিশ পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে বিদ্যুৎ মামুনের বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এই নেতা।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে মৌখিকভাবে ইফতার আয়োজন স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয়। পুলিশের ভাষ্য, সেখানে সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। পরবর্তীতে আয়োজকরা থানার সঙ্গে যোগাযোগ করলে ইফতার আয়োজন চালানোর অনুমতি পাওয়া যায়।

আয়োজকরা জানান, সিদ্ধিরগঞ্জের হীরাঝিল আবাসিক এলাকার বায়তুন নূর জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে হীরাঝিল সমাজ কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে এলাকার বাড়িওয়ালা, গণ্যমান্য ব্যক্তি, আলেম-ওলামা ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

হীরাঝিল সমাজ কল্যাণ সমিতির সভাপতি ইউসুফ রশীদ বলেন, এটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক একটি সামাজিক উদ্যোগ। হঠাৎ পুলিশ এসে অনুষ্ঠান না করার কথা জানায়। পরে তারা জানতে পারেন, স্থানীয়ভাবে আপত্তি তোলা হয়েছে। তার দাবি, বিদ্যুৎ মামুনের পক্ষ থেকেই আপত্তির বিষয়টি আসে।

অভিযোগকারী হিসেবে নাম আসা মিজানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিএনপি নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন আমার চাচা। উনার কথায় আমি অভিযোগপত্র জমা দিয়েছি। আমি শুরুতে অভিযোগের বিষয়বস্তু সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নেইনি।

বিএনপি নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন, ইফতার মাহফিল বন্ধের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমি কোনো অভিযোগ দেইনি। তবে, হীরাঝিল সংগঠনের সভাপতি ইউসুফ রশীদ রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত ও সংগঠন দখল করে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত। ইউসুফ নির্বাচিত কমিটির সদস্য নন ও প্রবাসে অবস্থান করেও সংগঠনের কার্যক্রমে যুক্ত আছেন।

ইফতার আয়োজন ঘিরে সম্ভাব্য সংঘর্ষের প্রসঙ্গে তিনি জানান, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার আশঙ্কা ছিল। তবে বিএনপির কোনো গ্রুপ অনুষ্ঠান বন্ধে আপত্তি তুলেছে তা খতিয়ে দেখতে আমি সাংবাদিকদের আহ্বান জানাই।

এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল বারিক জানান, মিজানুর রহমান নামে একজন থানায় একটি লিখিত অভিযোগের কপি জমা দেন। বিষয়টি যাচাই করতে পুলিশ পাঠানো হয়। তদন্তে দেখা যায়, এটি একটি সামাজিক ইফতার অনুষ্ঠান ও সেখানে রাজনৈতিক কোনো কর্মসূচি নেই। আয়োজকদের অনুষ্ঠান চালিয়ে যেতে বলা হয়েছে এবং পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো বাধা নেই।

মো. আকাশ/এমএন/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।