বেডরুমে ঢুকে বৌ-বাচ্চাকে গুলির হুমকি: বহিষ্কৃত যুবদল নেতা গ্রেফতার
রংপুরে ডিশ ও ইন্টারনেট ব্যবসার দখল নিয়ে বেডরুমে ঢুকে স্ত্রী-সন্তানসহ গুলি করার হুমকির ঘটনায় বহিষ্কৃত যুবদল নেতা তামজিদুর রশীদ গালিবকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। পরে তাকে রংপুর কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়।
সোমবার (২ মার্চ) দিনগত রাতে মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ওসি বলেন, মায়া সাইবার ওয়ার্ল্ড ও ক্যাবল ওয়ান কর্তৃপক্ষের দায়ের করা মামলায় তামজিদুর রশীদ গালিবকে র্যাব গ্রেফতার করেছে। পরে তাকে কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়।
পুলিশ জানায়, অফিসে ঢুকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মারধর, ভাঙচুর ও বাসায় গিয়ে হত্যার হুমকির অভিযোগে কোতোয়ালি থানায় ক্যাবল ওয়ান ও মায়া সাইবার ওয়ার্ল্ডের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়।
মামলায় জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক তামজিদুর রশীদ গালিব ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকিবুল রহমান মনুসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার বাদী ক্যাবল ওয়ানের জিএম রায়হান আহম্মেদ পরাগ এবং মায়া সাইবার ওয়ার্ল্ডের সহকারী হিসাব রক্ষক মো. রাসেল।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, নগরীর কামাল কাছনা এলাকায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাসীরা প্রতিষ্ঠানের লাইন কেটে দেয়। এতে গ্রাহকরা মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হয়েছেন এবং দুই প্রতিষ্ঠান প্রায় ৭ লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছে। এ ঘটনায় মায়া সাইবার ওয়ার্ল্ডের পপ ম্যানেজার রেবেকা হারুন সংবাদ সম্মেলন করে ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন।
আরও পড়ুন
বেডরুমে ঢুকে বৌ-বাচ্চাকে গুলি করবো: ডিশ কর্মকর্তাকে যুবদল নেতা
দস্যু দমনে সুন্দরবনে আবারও যৌথবাহিনীর অভিযান
সংবাদ সম্মেলনের পর পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। রোববার বিকেলে গালিব ও মনুসহ আনুমানিক ১৫-২০ জন প্রতিষ্ঠানের অফিসে ঢুকে স্টাফদের ওপর মারমুখী আচরণ করেন। এ সময় তামজিদুর রশীদ গালিবের নির্দেশে অন্য আসামিরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে মারধর করেন এবং অফিসের গুরুত্বপূর্ণ ল্যাপটপ, কম্পিউটার ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি ভাঙচুর করেন। তারা হুমকি দেন যে, আগামীকালের মধ্যে কামাল কাছনা এলাকায় তামজিদুর রশীদ গালিবকে নতুন ফিড অপারেটর হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে।
এ সময় আকিবুল রহমান মনু প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার মাহাদি হাসান কাফিকে মোবাইলে হুমকি দেন, ‘তুই আওয়ামী লীগের দালালি করছিস। তোর বাসায় গিয়ে গুলি করে আসবো। আজকে বিকেলের মধ্যে যদি সমাধান না করিস তাহলে তোর বেডরুমে গিয়ে বউ-বাচ্চাসহ তোকে গুলি করে আসবো।’
পরে মনুসহ তাদের অনুসারীরা হুমকি দেন- অফিসের বাইরে গেলে কর্মীদের মারধর বা খুন-জখম করা হবে। ঘটনার পর তারা সেখান থেকে চলে যান।
এ ঘটনার পর অভিযুক্ত দুই নেতাকে রোববার রাতেই বহিষ্কার করে যুবদল। সংগঠনটির সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়ার সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলের নীতি-আদর্শ ও সংহতির পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
জিতু কবীর/কেএসআর