সুনামগঞ্জ
শেষ হয়নি বাঁধ নির্মাণ কাজ, ঝুঁকিতে হাওরের ধান
সুনামগঞ্জে ১৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। তবে নির্ধারিত সময়েও শেষ হয়নি হাওরের বাঁধ নির্মাণ। বাঁধের কাজে ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। বাঁধের স্থায়িত্ব নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা।
স্থানীয়রা জানান, ২০১৭ সালে হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম হওয়ায় উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বাঁধ ভেঙে ডুবে যায়। এতে প্লাবিত হয় জেলার শতভাগ ফসল। পরে ঠিকাদারি প্রথা বাদ দিয়ে পিআইসি প্রথা চালু করা হয়। যেখানে হাওর পাড়ের কৃষকদের মাধ্যমে তৈরি হবে বাঁধ। প্রণয়ন করা হয় এমন নীতিমালা।
নীতিমালা অনুযায়ী গত ১৫ ডিসেম্বর হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ শুরু হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো অনেক বাঁধে মাত্র মাটির কাজ শুরু হয়েছে। সেইসঙ্গে যতটুকু কাজ হয়েছে তাতেও অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন হাওরপাড়ের কৃষকরা।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে সুনামগঞ্জের ১২টি উপজেলার ৯৫টি হাওরে দুই লাখ ২৩ হাজার ৫১০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছে। এসব জমির ফসল রক্ষায় ৭১৪টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসির) মাধ্যমে ১৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬০১ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত কাজ শুরু হয় গত ১৫ ডিসেম্বর। তবে বাঁধের কাজে ধীরগতি ও টেকসই না হওয়ার অভিযোগ কৃষকদের।
হাওরপাড়ের কৃষক মকবুল আলম বলেন, ‘এই বছর কাজে সবচেয়ে বেশি অনিয়ম-দুর্নীতি হচ্ছে। ঠিকমতো বাঁধের কাজ হচ্ছে না। এতে হাওরের ধান ঝুঁকিতে রয়েছে।’

আলমগীর নামের আরেক কৃষক বলেন, ‘বাঁধের কাজে অন্য বছর সাইনবোর্ড থাকলেও এবছর কোনোও সাইনবোর্ড ব্যবহার করা হচ্ছে না। কাজের গুণগত মান অনেক খারাপ। এবছর হাওরের ধান ঘরে না তুলতে পারলে এ অঞ্চলের কৃষকরা নিঃস্ব হয়ে যাবেন।’
সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়ে কৃষক আজগর আলী বলেন, কয়েকদিন পরেই বৃষ্টিপাত শুরু হবে। তাই তার আগেই বাঁধের কাজ শেষ করা জরুরি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের দাবি, বাঁধের কাজ ৭৫ শতাংশ সম্পূর্ণ হয়েছে। তবে প্রকৃতপক্ষে বাঁধের কাজ ৪০ শতাংশ হয়েছে বলে দাবি করেন হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায়।
তিনি বলেন, এবছর হাওরের বাঁধের কাজে অনেক অনিয়ম-দুর্নীতি হচ্ছে। উজানের ঢলে যদি এবছর ফসলের ক্ষতি হয়, তাহলে আমরা ১২ উপজেলায় বাঁধ সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে মামলা করবো।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, নির্বাচনের কারণে হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের মাটির কাজ সময়মতো শুরু করা যায়নি। তবে সব বাঁধই ঝুঁকিমুক্ত করা হয়েছে। ১০ মার্চের মধ্যে সব কাজ শেষ হয়ে যাবে।
লিপসন আহমেদ/এসআর/এমএস