ভৈরব

ডিপো থেকে এজেন্ট ডিলারদের তেল সরবরাহ বন্ধ, অর্ধেক পাচ্ছে ফিলিং স্টেশন

রাজীবুল হাসান রাজীবুল হাসান ভৈরব (কিশোরগঞ্জ)
প্রকাশিত: ০৬:৫৯ পিএম, ০৮ মার্চ ২০২৬
তেলের জন্য ডিপোর সামনে অপেক্ষমাণ শতাধিক ট্যাংক-লরি/ছবি-জাগো নিউজ

ভৈরবের তিনটি ডিপো থেকে এজেন্ট ডিলারদের তেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ফলে ডিপোর সামনে ১০ জেলার শতাধিক ট্যাংক-লরির দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। তবে ডিপোগুলো থেকে শুধু ফিলিং স্টেশন ডিলারদের চাহিদার চেয়ে অর্ধেক পরিমাণ জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।

রোববার (৮ মার্চ) রেশনিং করে পাম্পগুলোতে তেল দেওয়া হলেও এজেন্ট ডিলারদের তেল সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে না। তেল ডিপো কর্তৃপক্ষ বলছে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী রেশনিং করে পাম্পগুলোতে তেল সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাণিজ্য বন্দরনগরী ভৈরবে জ্বালানি তেলের তিনটি ডিপো রয়েছে। ডিপোগুলো হলো পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড। বন্দরের মেঘনা নদীর পাড়ে এসব ডিপোর অবস্থান। এসব ডিপো থেকে দেশের ১০টি জেলায় জ্বালানি তেল ডিলারদের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়। তেল ব্যবসায় দুই ধরনের ডিলার রয়েছে। ফিলিং স্টেশন (পাম্পের) ডিলার ও এজেন্ট ডিলার।

ভৈরব থেকে যেসব জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয় সেগুলো হলো কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, জামালপুর, শেরপুর, নরসিংদী, গাজীপুর, ব্রাক্ষণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ ও কুড়িগ্রাম।

ডিপো থেকে এজেন্ট ডিলারদের তেল সরবরাহ বন্ধ, অর্ধেক পাচ্ছে ফিলিং স্টেশন

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে দেশে জ্বালানি তেল সংকট দেখা দিয়েছে। এ সংকটের ধারাবাহিকতায় প্রভাব পড়েছে ভৈরবের ডিপোগুলোতে।

তিনটি ডিপোতে সরেজমিনে দেখা যায়, শতাধিক ট্যাংক-লরি জ্বালানি তেল নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে। কিন্তু রেশনিং পদ্ধতি চালু করায় অনেকেই তেল নিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছেন। কারণ ট্যাংক-লরিতে তেল ভর্তি না করে গন্তব্যে গেলে পরিবহন ব্যয়ে পোষাবে না। আবার কেউ কম তেল নিয়েই গন্তব্যে যাচ্ছেন।

ভৈরব ট্যাংক-লরি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, ‌‘বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) পর্যন্ত জ্বালানি তেল সরবরাহে ডিপোতে কোনো রেশনিং পদ্ধতি ছিল না। তবে আজ থেকে রেশনিংয়ে শুধু তেলের পাম্পগুলোতে তেল সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। রেশনিংয়ে চাহিদামতো তেল না পেলে ট্যাংক-লরি অর্ধেক খালি রেখে গন্তব্যে গেলে পরিবহন খরচ বেড়ে যায়। আবার কম তেল নিয়ে গেলে স্ব স্ব এলাকায় ক্রেতাদের চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়। এ কারণে অনেক চালক রেশনিং তেল সরবরাহ নিচ্ছেন না।’

ভৈরব জ্বালানি তেল মালিক সমিতির সভাপতি মো. অহিদ মিয়া বলেন, ‘আমরা এজেন্ট ডিলার মালিকরা সারা বছর তেল কেনাবেচা করি। এখন তেল সংকটকালে সারাবছর যারা তেল তেমন একটা নেন না, তারাও তেল নিতে ডিপোতে ভিড় করছেন। আজ কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে তেল না দিয়ে শুধু পাম্প মালিকদেরকে দিচ্ছে, যা অবিচার মনে করছি। এতে তেল সংকট আরও প্রকট হবে।’

নরসিংদীর ভূ্ঁইয়া ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার পুনম মিয়া বলেন, ‘শহরে আমাদের তিনটি পাম্প রয়েছে। সেখানে আমাদের প্রতিদিন তেলের চাহিদা রয়েছে এক গাড়ি। কিন্তু আজকে চার হাজার ৫০০ লিটার তেল বরাদ্দ দিয়েছে। এই তেল তিনটি পাম্পে মাত্র ১৫০০ লিটার করে পড়বে। এখন যে পরিমাণ তেলের চাহিদা রয়েছে তা নিলেতো গ্রাহকদের সঙ্গে মারামারি করতে হবে। তাই আমাদের মালিক তেল নিতে নিষেধ করেছেন।’

ডিপো থেকে এজেন্ট ডিলারদের তেল সরবরাহ বন্ধ, অর্ধেক পাচ্ছে ফিলিং স্টেশন

শেরপুর জেলার চন্দিমা ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো.সোহাগ মিয়া বলেন, ‘আমাদের পাম্পে ডিজেল তেলের চাহিদা অনুযায়ী সাড়ে ১৩ হাজার লিটার তেলের জন্য ব্যাংকে টাকা জমা দিয়ে পে-অর্ডার নিয়ে এসেছি। কিন্তু ভৈরবের ডিপোতে এসে শুনলাম আজ আমাদের পাম্পের নামে লিস্টে বরাদ্দ এসেছে সাড়ে চার হাজার লিটার। এখন যদি এই তেল নিয়ে শেরপুরে যেতে যে খরচ পড়বে, তা সাড়ে ১৩ হাজার লিটার তেলে একই খরচ পড়বে। এতে আমরা অনেক লসে পড়বো।’

ভৈরবের মেঘনা অয়েল কোম্পানির ডিপোতে ডিজেল তেল নিতে এসেছেন ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার এজেন্ট ডিলার প্রতিনিধি মিন্টু মিয়া। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘ভৈরবের ডিপো থেকে তেল নিতে রাতে রওয়ানা দিয়ে ভোরে এসেছি। কিন্তু ডিপো থেকে এজেন্টদের তেল সরবরাহ করছে না। তারা বলছেন, অফিসের নির্দেশ অনুযায়ী আজ শুধু ফিলিং স্টেশন এজেন্টদের তেল দেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড ভৈরব ডিপো ইনচার্জ মো. মতিউর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তেল সরবরাহে কোনো রেশনিং ছিল না। অনেক ডিলার অতিরিক্ত তেল নিয়ে মজুত করেছেন। আজ (রোববার) তার ডিপোতে ১২ লাখ লিটার তেল মজুত আছে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নির্দেশ দিয়েছে আজ শুধু বিভিন্ন জেলার পাম্প মালিকদের ট্যাংক-লরিতে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল সরবরাহ করা হবে। আগে যে পরিমাণ তেল নিয়েছে তার চেয়ে ২৫ শতাংশ তেল কম দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় ২৭ জন এজেন্ট ডিলারদের তেল দিতে কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

মেঘনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড ডিপো ইনচার্জ মো. নাজিম উদ্দিন বলেন,, মেঘনা ডিপোতে ১২ লাখ লিটার তেল মজুত আছে। রোববার পাম্প মালিক ছাড়া এজেন্ট ডিলারকে তেল দেওয়া যাবে না বলে কর্তৃপক্ষের নির্দেশ রয়েছে। তার ডিপোতে ৩০ জন এজেন্ট ডিলার আছেন। তারা পরে তেল পাবেন বলে তিনি জানান।

চট্টগ্রাম থেকে তেলের জাহাজ শিগগির ভৈরবে আসবে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, একটি জাহাজ ভৈরবের উদ্দেমে রওয়ানা দিয়েছে।

পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড ডিপো ইনচার্জ মো. মোমতাজুল ইসলাম বলেন, তার এজেন্ট ডিলার সংখ্যা ৩০ জন। কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এসব ডিলারদের রোববার তেল দেওয়া বন্ধ রাখা হয়েছে।

এসআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।